• উপগ্রহ উৎক্ষেপণে প্রস্তুত বলছে উত্তর কোরিয়াঃ ক্ষেপণাস্ত্র সন্দেহ করছে জাপ-মার্কিন-দক্ষিণ
    north_korea_unha3_visitor_guard.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ এপ্রিল ২০১২, মঙ্গলবারঃ  যুদ্ধরত প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া এবং 'শত্রুভাবাপন্ন' জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিরোধিতার সত্ত্বেও একটি পর্যবেক্ষণ-উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জনতান্ত্রিক রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া। উনহা-৩ নামের রকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহ কোয়াংমাইয়ংসং (জ্বলজ্বলে তারকা) উৎক্ষেপণের এই পরিকল্পনাকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বলে সন্দেহ করছে বিরোধীরা।

    উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সুংয়ের শততম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে উনহা-৩ উৎক্ষেপণের জন্য এপ্রিল মাসের ১২ থেকে ১৬ তারিখের যে-কোনো একটি দিনকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ রকেটটিতে ১০০ কিলোগ্রাম (২২০ পাউণ্ড) ওজনের এ-উপগ্রহটি স্থাপনের কাজ আজ সম্পন্ন হবার কথা। এরপর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জ্বালানী ভরে নিলেই রকেটটি উৎক্ষিপ্ত হতে পারবে।

    জাপান বলেছে, 'প্রয়োজনে গুলি করে ভূ-পাতিত করা হবে' উত্তর কোরীয় এ-উপগ্রহটিকে। প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদার অনুমতি সাপেক্ষে টোকিওর কেন্দ্রস্থলে ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। জাপান এয়ারলাইন্স, অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ও ফিলিপাইন এ্যায়ারলাইন্স তাদের বিমান ঘুরপথে পরিচালনা করছে।

    যুক্তরাষ্ট্র এ-ঘটনায় চীনের আরও বিস্তৃত ভূমিকা আশা করে বলেছে যে, বেইজিং যেনো পিয়ংইয়ংকে এ-রকেট উৎক্ষেপণ বন্ধ করতে বাধ্য করে।

    দক্ষিণ কোরিয়া মনে করছে যে, রকেট উৎক্ষেপণের পর-পরই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা চালাবে। এমন সন্দেহের কারণ হিসেবে দেশটি বলছে যে, ২০০৬ ও ২০০৯ সালেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর-পরই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিলো।

    উল্লেখ্য, রকেট উনহা-৩ অথবা কৃত্রিম উপগ্রহ কোয়াংমাইয়ংসং সামরিক কাজে ব্যবহৃত হবে এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বিরোধীদের কেউই।

    পক্ষান্তরে উত্তর কোরিয়া এ-রকেট ও উপগ্রহ উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বেসামরিক উল্লেখ করে বলছে, 'কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের অধিকার সকল রাষ্ট্রেরই রয়েছে'। 'অপপ্রচারের জবাব' দিতে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস টেকনোলজির উপ-পরিচালক রু গাম চোল সংবাদ সম্মেলন ডেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোকে এ-প্রকল্পের বিস্তারিত জানান। সাংবাদিকদেরকে উৎক্ষেপণ-মঞ্চের ছবি তুলতেও অনুমতি দেয়া হয় যা সচরাচর দেয়া হয় না।

    রু জানান, এ-উপগ্রহটি উত্তর কোরিয়ার বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করবে যা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হবে। এ-রকেটের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হবে এমন সন্দেহকে 'ফালতু' বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। জাতিসংঘের পূর্বতন রেজুলুশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের (দেশের) সার্বভৌমত্বকে ভঙ্গ করে এমন কোন জাতিসংঘ-প্রস্তাবকে আমরা স্বীকৃতি দিই না'।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন