• ক্যামেরোনের রাশিয়া সফরঃ গোয়েন্দা-হত্যা ইস্যুতে ভিন্নতা সত্ত্বেও সহযোগিতায় সম্মত
    Cameron-visit-Russia.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১, সোমবারঃ  দীর্ঘ অর্ধ-দশকের কূটনৈতিক স্থবিরতা পাশে ঠেলে ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার রাশিয়া সফরে মস্কো পৌঁছেছেন। লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত প্রাক্তন রাশিয়ান গোয়েন্দা আলেক্সান্দার লিতভিনেনকোর ২০০৬ সালে মৃত্যুর পিছনে গুপ্তঘাতকের হাত আছে সন্দেহে রুশ নাগরিক আন্দ্রে লুগোভয়কে বিচারের জন্য ব্রিটেইনে পাঠাবার ব্রিটিশ-দাবী নিয়ে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা শুরু পর আজই কোনো ব্রিটিশ নেতার রাশিয়া সফর।

    প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোন মস্কোতে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন। মেদভেদেভ-ক্যামেরোনের যৌথ সংবাদ সম্মলনে দু-নেতাই নিজ-নিজ দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে লিতভিনেনকো মামলার বিষয়টি এক পাশে রেখে অন্যান্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

    রুশ প্রেসিডেন্টের সাথে মিলিত হবার আগে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোন মস্কো স্টেইট ইউনিভার্সিটীতে এক বক্তৃতায় বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সরল ও নীতি-শাসিত। যখন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, এটি আদালতের বিষয়। অপরাধ বা নিরাপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করা এবং নিরেপেক্ষভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করার কাজ হচ্ছে আদালতের। অভিযুক্তের অধিকার আছে ন্যায্য বিচার পাবার। অপরাধের শিকার-ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের অধিকার আছে ন্যায় বিচার পাবার।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারগুলোর কাজ হচ্ছে আদালত-সমূহকে তাদের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করা এবং আমাদের এ-দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে।’

    আন্দ্রে লুগোভয়ের ব্রিটেইনের হাতে তুলে দেয়ার প্রশ্নে রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ বলেন, ‘এটি কখনও ঘটবে না’। তিনি রাশিয়ার সংবিধানের ৬১ নম্বর ধারা উল্লেখ করে জানান, রাশিয়ার সংবিধান রাশিয়ার কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে বিচারের জন্য পাঠানো অনুমোদন করে না। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রত্যেককেই নিজ দেশের মৌলিক আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে’।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন,  পাঁচ বছর আগের গোয়েন্দা হত্যা মামলা নিয়ে ব্রিটেন রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোনের আজকের মস্কো সফর তারই ইঙ্গিতবহ।

    ক্যামেরোন বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি যে, কিছু কাল যাবৎ ব্রিটেইন ও রাশিয়ার মধ্যে কঠিন সম্পর্ক বিরাজ করেছে। আমরা যে বিষয়গুলোতে এখনও একমত নই সে-বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাদের খোলামেলা হওয়া উচিত। কিন্তু আমি সহযোগিতা-ভিত্তিক একটি নতুন পথের কথা বলতে চাই।’

    রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ সহযোগিতা প্রসঙ্গে অলিম্পিকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী বছরে অলম্পিক হচ্ছে ব্রিটেইনে এবং তারপর রাশিয়াতে। যেহেতু আমাদের দেশ-দুটো অলিম্পিক আয়োজন করবে, তাই প্রকৌশল এবং বিনিয়োগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দিন-দিন এ-বিষয়গুলো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন