• 'ক্যু' করেছে তুর্কী সেনাবাহিনীঃ প্রেসিডেণ্ট এর্দোয়ানের সমর্থকরা রাজপথে
    turkey_coup_attempt.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৬ জুলাই ২০১৬, শনিবারঃ গতরাতে তুরষ্কের সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে বলে দাবী করেছে। বিপরীতে প্রেসিডেণ্ট রেজেপ এর্দোয়ান দাবী করেছেন ক্ষমতা এখনও তাঁরই হাতে রয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে জানা গিয়েছে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের রাজপথে ট্যাঙ্ক নেমেছে।

    রাষ্ট্রায়ত্ব টিভি চ্যানেল টিআরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখান থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে ক্যু'র ঘোষণা দিয়ে সামরিক আইন জারি করেছে সেনাবাহিনী। এর্দোয়ানের সরকার 'গণতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমকে ক্ষয় করছে' বলে অভিযোগ করা হয় এ-বিবৃতিতে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে শান্তি স্থাপিত হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি 'পীস কাউন্সিল' বা শান্তি পর্ষদ জনগণের নিরাপত্তা বিধান করবে।

    সমগ্র সেনাবাহিনী এ-ক্যু'র সাথে জড়িত কিনা, যদি না হয়, তবে নির্দিষ্ট করে কারা-কারা এটি সঙ্ঘটিত করছে তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।বিদ্রোহী সেনাদের সাথে বিমান বাহিনীর অন্ততঃ একাংশ যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য ইণ্ডিপেণ্ডেণ্ট। তবে, বড়ো শহরগুলোতে পুলিস বাহিনী দৃশ্যতঃ প্রেসিডেণ্টের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছে।
     
    অনমনীয় এর্দোয়ান বিদ্রোদেরকে শাস্তি দিবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'ষড়যন্ত্রকারীদেরকে বিরাট মূল্য দিতে হবে।" ক্যু শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে তাঁর সমর্থকদেরকে পথে নামতে আহবান জানান।

    এর্দোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার-হাজার সমর্থক পতাকা হাতে পথে নেমে আসেন। প্রেসিডেণ্টের পক্ষে থাকা পুলিস বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী সেনাদের গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গিয়েছে। পার্লামেণ্ট ভবনের বাইরে ট্যাঙ্কের গোলা ছোড়ার কথাও বলছে কোনও কোনও সংবাদ মাধ্যম। রুশ টিভি চ্যানেল রাশিয়া টুডে জানিয়েছে সহিংসতায় এ-পর্যন্ত ১৭ জন পুলিস, একজন সেনা কর্মকর্তা ও ৬০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

    তুরষ্কে ক্যুর ঘটনায় বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী গ্রীসের সেনা ও পুলিস বাহিনী বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। একের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামা, রুশ প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মানীর চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মের্কেল-সহ অনেক বিশ্বনেতা ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁদের সকলেই দৃশ্যতঃ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এর্দোয়ানের সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন