• খুনে-মত্ত মার্কিন সেনার কাণ্ডঃ নারী ও শিশু সহ ১৬ আফগানের প্রাণ-নাশ ব্রাশ ফায়ারে
    Afghan-civilians-killed.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১১ মার্চ ২০১২, রোববারঃ  দখলদার মার্কিন বাহিনীর এক সেনা-সদস্য আজ দক্ষিণ আফগানিস্তানের একটি গ্রামে ৯ শিশু এবং ৩ নারী-সহ ১৬ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে নির্বিচারে হত্যা করেছে। আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এ-ঘটনাটিকে ‘ইচ্ছাকৃত খুন’ আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবী করেছেন।

    দক্ষিণ কান্দাহার প্রদেশের পাঞ্জাওয়ি জেলায় ন্যাটো সমারিক ঘাঁটির এক মার্কিন সেনা-সদস্য আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় পার্শ্ববর্তী বালান্দি ও আলকোজাই গ্রামে গিয়ে এ-হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।

    সেনাটি প্রথমে একটি বাড়ীর আঙ্গিনায় ঢুকে একই পরিবারের শিশু ও নারী-সহ ১১ জনকে নির্মভাবে গুলি করে হত্যা করে। এ-সময় পরিবারটির প্রধান তাঁর এক পুত্র-সহ দূরবর্তী স্থানে ছিলেন বলে শোকাহত হয়ে বেঁচে আছেন।

    খুনে-মত্ত মার্কিন সেনাটি একটি পরিবার খতম করার পর গ্রামের আরও ৫ জনকে হত্যা করে। তবে এ-পর্যায়ে হত্যাকারী সেনাটিকে মার্কিন সেনাবাহিনী বন্দী করে তাদের হেফাজতে রাখে। 

    আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই মার্কিন সেনার এ-কাণ্ডটিকে ইচ্ছাকৃত বলে চিহ্নিত করে বলেন, ‘এটি একটি খুনের ঘটনা, নিরাপরাধ বেসমারিক মানুষকে একটি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্য করা হয়েছে, যা ক্ষমার অযোগ্য।’ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রেসিডেন্ট কারজাই বলেছেন, আফগান বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করা বন্ধের জন্য তিনি বার-বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবী জানিয়েছেন।

    আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ সেনাপতি জেনারেল জন এ্যালেন এক বিবৃতিতে ঘটনার পূর্ণ ও দ্রুত তদন্ত করে হত্যাকারীকে আইনের সম্মুখীন করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গভীর লোমহর্ষক এই কাণ্ডটি কোনো মতেই জোট সেনাদের মূল্যবোধ ও আফগান জনগণের প্রতি আমাদের অনুভূত সম্মানের প্রতিনিধিত্ব করে না।’ জেনারেল এ্যালেন আরও বলেন, ‘আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে আমাদের অংশিদারীত্ব ও সহযোগিতার চেতনা বৃদ্ধির জন্য আমরা যে-সুকঠোর পরিশ্রম করেছি, এই ঘটনার সে-চেতনার বিনাশ বা ক্ষতি করতে পারবে না।’

    এ-দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্য্যালয় ওয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রিপৌর্ট জেনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ঘটনাটির উপর নিবিষ্ট অনুধ্যান করছে।

    উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে অতি সম্প্রতি মার্কিন সেনাদের হাতে মুসলিম ধর্মগ্রন্থ কুরআন পোড়ানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যে-তীব্র মার্কিন ও বিদেশী বিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে, আজকের এই হত্যাকাণ্ডটি তাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণ করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন