সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- খ্রিস্টধর্মকে ব্রিটেইনের জনজীবনে আসন দিতে চান মুসলিম মন্ত্রী লেইডী ওয়ার্সি

ইউকেবেঙ্গলি - ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২, মঙ্গলবারঃ ক্যাবিনেট অফিস মিনিস্টার ব্যারনেস সৈয়দা ওয়ার্সি আজ ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মের তীর্থ নগররাষ্ট্র ভ্যাটিকানে গিয়ে ধর্মনিরেপক্ষতাবাদের সমালোচনা করে খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করে সরকারের পক্ষ থেকে একে জনজীবনে স্থান দেবার প্রত্যয় ঘোষণা করেন।
ব্রিটিশ মন্ত্রীসভার ছয় সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটেইনের প্রথম মুসলিম নারী মন্ত্রী সৈয়দা ওয়ার্সি আজ মঙ্গলবার ভ্যাটিকানে প্রশিক্ষার্থী ক্যাথলিক কূটনৈতিকদের একটি সমাবেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
ওয়ার্সি বলেন, ‘শতো-শতো বছর ধরে খ্রিষ্টধর্ম ইউরোপে আমাদের সমাজ-সমূহে উৎসাহ, প্রেরণা ও শক্তি যুগিয়ে এবং উন্নতি সাধন করে আসছে।’ কিন্তু ‘ইউরোপীয় সংবিধানের ভূমিকাতে খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে একটি শব্দও নেই’ বলে ভ্যাটিকানের দীর্ঘকালীন অনুযোগের প্রতিধ্বনি তুলে ওয়ার্সি হতাশা প্রকাশ করেন।
ব্রিটিশ সমাজের জনজীবনে ধর্মের অপ্রাসঙ্গিতার ধারণা খারিজ করে ব্যারোনেস ওয়ার্সি ‘সৎ উদ্দেশ্যপূর্ণ উদারপন্থী অভিজাতদের’ সমালোচনা করে বলেন যে, তাঁরা ‘ধর্মবিশ্বাসকে সমাজে প্রান্তিক করে দিয়ে সমতা সৃষ্টি করতে চান’। তিনি বলেন, ‘উদারপন্থীরা তর্ক করে এই বলে যে, ধর্ম ও যুক্তিবাদ পরস্পরের পরিপূরক নয়, কিন্তু তারা বুঝেন না - যেমনটি পবিত্র পিতা (পৌপ) বলেন - ধর্ম ও যুক্তিবাদ হাতে হাত রেখে চলে।'
তিনি বলেন, 'ব্যক্তি মানুষকে এবং জাতিকে নিজ-নিজ ধর্মীয় পরিচিতি নিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী ও শক্তিশালী বোধ করতে হবে।' ক্যাবিনেট অফিস মিনিস্টার ওয়ার্সি জানান, ‘জনজীবনের আলোচনার টেবিলে ধর্মবিশ্বাসকে আসন দেবার’ জন্য যুক্তরাজ্যের সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভ্যাটিকানের উদ্দেশ্যে যাত্রার পূর্বদিন দৈনিক টেলিগ্রাফে লিখিত একটি প্রবন্ধে ওয়ার্সি বলেন, 'আমার ভয় হলো যে, বর্তমানে জঙ্গী সেক্যুলারিকরণ আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। আমরা একাধিক বিষয়ে আমরা তার প্রকাশ দেখতে পাচ্ছিঃ যখন সরকারী ভবনে ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শন কিংবা পরিধান করা যায় না; যেখানে ধর্মকে পাশে ঠেলে দেয়া হয়েছে, প্রান্তিক করা হয়েছে, জনজীবনে নীচে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।'
প্রশংসনীয় উদ্যম।