• গণবিক্ষোভে উত্তাল তেল-আবিবে তাহরির স্কোয়ারঃ ধর্মঘটে অচল ইসরায়েল
    Israel_protest_31July_tel_aviv.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১ অগাস্ট ২০১১, সোমবারঃ আট দিন ধরে ইসরায়েলে চলে আসা গণ-বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছেই। নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, সাধ্যাতীত আবাসন-ব্যয়, চিকিৎসা-সেবার অপ্রাপ্যতা, বেসরকারীকরণ, উচ্চহারে কর-আরোপ, সামাজিক ন্যায়-বিচার ও সর্বোপরি সম্পদের ভারসাম্যহীন বন্টনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বিশ্বের একমাত্র ইহুদী-রাষ্ট্র ইসরায়েলের নাগরিকেরা।

    বিক্ষোভকারীরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী আরব-দেশসমূহের সাম্প্রতিক সফল গণবিক্ষোভের পথ ধরে ইসরায়েলের নাগরিকরাও অনুধাবন করতে পারছে ঐক্যবদ্ধ জনতার শক্তি। মিশরের তাহরির স্কোয়ার আর স্পেইনের সূর্যতোরণ চত্বরে তরুণ-সমাজের সাহস ও ঐক্য অনুপ্রেরণা দিচ্ছে তেল-আবিবের বিক্ষোভকারী যুবক-যুবতীদেরকে।

    শহরে-শহরে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভে নেমেছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত নাগরিকরা। ২৩শে জুলাইয়ের প্রথম বিক্ষোভে আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করলেও, এক সপ্তাহ পরে ৩০শে জুলাইয়ের বিক্ষোভে দেড়-লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। তেল-আবিব যাদুঘরের সামনের যে জায়গাটি বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র, তাকে এখন ডাকা হচ্ছে 'ইসরায়েলের তাহরির স্কোয়ার' নামে।

    অর্থনৈতিক দূরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হলেও এ-বিক্ষোভ এখন পরিষ্কার বৃহত্তর রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে। প্রথম-দিনের বিক্ষোভ পুলিসের সাথে এলোমেলো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, দ্রুতই তা পরিপক্কতা অর্জন করছে। জনতা শহরে-শহরে বিক্ষোভ পরিচালনার জন্য পর্ষদ গড়ে তুলছে। গণ-জমায়েত সফল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক আর ট্যুইটার। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ থেকে ৪০ এর মধ্যে।

    গণবিক্ষোভের সাথে একাত্মতা জানাতে ইসরায়েলের পৌরসভাগুলো আজ সোমবার একদিনের পূর্ণদিবস হরতাল পালন করেছে। শহরের সড়কগুলো পরিষ্কার করা হয়নি, গৃহস্থালীর আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়নি; এমনকি পৌরসভাগুলোর ভবনেও কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। চলমান এ-আন্দোলনে আরও যোগ দিয়েছে চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীরাও।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নির্ধারিত বিদেশ-সফর বাতিল করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, স্বল্প-মূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কম-বয়েসী দম্পতি ও সাম্প্রতিক-সময়ে অবসরে যাওয়া সৈনিকদের জন্য। বিক্ষোভ রুখতে তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি আরও জানিয়েছেন, এক মাসের জন্য গ্যাসের দাম কমানো হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিক্ষোভকারীদের মৌলিক দাবীসমূহ বাদ দিয়ে কেবলমাত্র 'ছাড়' দেয়ার লোভ দেখিয়ে এ-বিক্ষোভ প্রশমন করা সম্ভব হবে না। বিশেষতঃ আরব-বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াবার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের জনগণের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

ইয়াহুদিদেরকে যদি সারা পৃথিবীর মালিক বানিয়ে দেওয়া হয় তারপরও তারা শান্তিতে থাকতে পারবেনা। কারন তারা অতীতে হযরত ঈসা(আঃ) কে হত্যা চেষ্টাসহ আরো অনেক নবী কে হত্যা করেছিলো।আর সেই প্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা তাদের গলায় আভিশাপের রশি লাগিয়ে দিয়েছেন। তাইতো ফিলিস্তিন দখলের পৃর্বে তাদের কোনো নিজস্ব ভূখন্ড ছিলো না।

মনে হয় একনং মন্তব্যই যথাযথ

জাগছে বিশ্ব....... জাগছে মানবতা........ অবশ্যই একদিন জাগবে বাংলাদেশ। চে'র তারুণ্যের আগুনে ঝলসে যাবে গোটা পৃথিবী। বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।

capitalism in deep crisis. waiting to see ultimate collapse.

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন