• গাজায় ইসরায়েলী হামলাঃ পূর্ণ স্থল-আগ্রাসনের প্রস্তুতি, দেশে-দেশে বিক্ষোভ
    israeli_tanks_at_gaza_border.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ নভেম্বর ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ প্যালেস্টাইনের গাজার উপর গতকাল শুরু হওয়া ইসরায়েলী হামলা আজ আরও জোরদার হয়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বাড়তি ৩০,০০০ স্থল-সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে গাজা সীমান্তে। এ-পর্যন্ত ৬টি শিশু-সহ মোট ১৯ জন প্যালেস্টাইনী নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলী জল-স্থল-বিমান হামলায়।

    নিহতদের রয়েছেন হামাসের সামরিক প্রধান আহমেদ জাবারি, যাঁর গাড়িতে বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত হয়েই আহমেদের গাড়িতে আঘাত করে। হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ইসরায়েলী প্রতিরক্ষা বাহিনী ইউটিউবে প্রকাশ করেছে।

    'প্রতিরোধ-লড়াই'

    গাজার ক্ষমতাসীন দল হামাস একে প্যালেস্টাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে 'প্রতিরোধ-লড়াই' চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে। তাদের পাল্টা রকেট হামলায় ইসরায়েলের ৩ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন - ইসরায়েলী সংবাদ-মাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাগুলো।

    হামাস দাবী করেছে তাদের ছোঁড়া রকেট ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিবে আঘাত করেছে। ইসরায়েল এ-দাবীকে 'প্রোপাগাণ্ডা' বলে অস্বীকার করলেও, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'আয়রণ ডৌম'-এর দীর্ঘ দিন যাবত মনে করা অব্যর্থ কার্যকারীতা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিক্রিয়া

    মিসর, তুরষ্ক, সিরিয়া, লেবানন, কাতার, ইরান, তিউনিসিয়ার মতো প্রতিবেশি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসরায়েলী হামলার। মিসর আরব লীগ ও জাতিসঙ্ঘে জরুরী বৈঠক ডেকেছে। আগামীকাল শুক্রবার মিসরের প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্দিল গাজা সফর করবেন।

    ইরান এ-হামলাকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কাণ্ড বলে বর্ণনা করেছে। ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা ওআইসি নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের সহিংসতার।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হামাদ বিন জসিম আল-থানি বলেছেন, 'কাতারের নামে আমি এর নিন্দা জানাই...এ-ঘৃণ্য অপরাধ বিনা-বিচারে পার পেতে পারে না'।

    লেবাননের জাতিসঙ্ঘের বৈরুত সদর-দপ্তরের সামনে অসংখ্য লেবানিজ ও শরনার্থী প্যালেস্টাইনী বিক্ষোভ করেছে।

    এছাড়াও সিরিয়া, মিসর ও তিউনিসিয়ায় গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ব্রিটেইন-যুক্তরাষ্ট্র 'ইসরায়েলের পক্ষে'

    এদিকে ব্রিটেইন ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন করে বক্তব্য দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমরা ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন করি এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে ইসরায়েলকে উদ্বুদ্ধ করি'।

    ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফৌন আলাপে বলেছেন, 'গাজা সঙ্কটের প্রধান দায় হামাসের'। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগ, 'গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট ছোঁড়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন'।

    জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন উভয় পক্ষকেই সহিংসতা বৃদ্ধি ঠেকাতে অনুরোধ করেছেন। তিনি আগামী মঙ্গলবার জেরুজালেম ও রামাল্লা সফর করবেন তবে তিনি গাজায় যাচ্ছেন না।

    লণ্ডনে ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ

    লণ্ডনে ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ

    গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলী হামলার মধ্যে লণ্ডনের ইসরায়েলী দূতাবাসের সামনে প্রায় ১ হাজার জনের একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, ইসরায়েলী সংবাদমাধ্যমগুলো যাকে 'ইসরায়েল-বিরোধী' বলে আখ্যায়িত করেছে। এ-বিক্ষোভে মানবতাবাদী অনেক ইহূদী ব্যাক্তিও অংশ নেন। এদের একজন জুডি বলেন,'ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন ভ্রমণ-কালে আমি দেখেছি, তাদের জীবন-মানের কতো ফারাক'। ব্রিটেইনে ফিরে এসে তিনি প্যালেস্টাইনী শিশুদের সহায়তাকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে শুরু করেন।

    আরও বিক্ষোভ আগামী কাল

    মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য অংশে আগামী কাল শুক্রবার আরও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তিউনিসিয়ার ক্ষমতাসীন এন-নেহদা পার্টি শুক্রবারে 'বৃহত্তর' বিক্ষোভ-জমায়েতের ডাক দিয়েছে। মিসর ও সিরিয়াতেও অনুরূপ বিক্ষোভ-সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে অনুমান করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন