• গাদ্দাফিকে গ্রেফতারের আইসিসির পরোয়ানা অগ্রাহ্য করবে আফ্রিকা-ইউনিয়ন
    Africa_Union.jpg

    ইউকেবেঙ্গলিঃ ৩রা জুলাই ২০১১, রোববারঃ  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি’র জারি করা গ্রেফতারী-পরোয়ানা অগ্রাহ্য করবে ৫৩ সদস্য-বিশিষ্ট আফ্রিকা-ইউনিয়ন। সদ্য-সমাপ্ত সপ্তদশ শীর্ষ-সম্মেলনে জোটটির নেতৃবৃন্দ এ-সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

    আইসিসি যেভাবে লিবিয়ার পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জোটটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, গাদ্দাফিকে গ্রেফতারী পরোয়ানা লিবিয়ার চলমান সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক দর-কষাকষিতে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করবে।

    এ-পরিপ্রেক্ষিতে আফ্রিকা-ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জোটোভূক্ত সদস্য-দেশগুলো আন্তর্জাতিক এ-আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানাটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে না। তারা মনে করছে, নেদারল্যান্ডসের হেইগ-ভিত্তিক আদালতটি কেবলমাত্র আফ্রিকা-সম্পর্কিত অপরাধ নিয়েই চিন্তিত, কিন্তু পৃথিবীর অন্যত্র যে-ভয়াবহ অপরাধ ঘটে চলেছে, সে-ব্যাপারে আগ্রহী নয়।

    আফ্রিকা-ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গিনির রাষ্ট্রপতি তিওদোরো ওবিয়াং এনগুয়েমা সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরাক, গাজা, আফগানিস্তানে জঘন্য সব অপরাধ ঘটেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সে-সব ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি - অথচ আফ্রিকার নেতৃবৃন্দের প্রতি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে।'

    আফ্রিকা-ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপার্সন জিন পিং বলেন, ‘আফ্রিকা ইউনিয়নকে আন্তর্জাতিক আদালতকে মেনে চলতে চাপ দিচ্ছে কিছু পশ্চিমা শক্তি, যার মধ্যে এমন দেশও - যেমন যুক্তরাষ্ট্র - রয়েছে যারা রৌম সংবিধিতে স্বাক্ষর করেনি।‘ উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রৌম সংবিধির উপরে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র তার সৈনিদেরকে দেশের মাটিতে ছাড়া অন্যত্র বিচার করতে দেয় না, সুতরাং আফ্রিকা কী করবে, তা বলে দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই তাদের।'

    আফ্রিকা ছাড়া পৃথিবীর আর কোন-স্থানের অপরাধীদের বিচারে এ-আদালত আগ্রহী নয় কেনো, সে প্রশ্নও উত্থাপন করেন জিন পিং।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন