• 'গাদ্দাফির টাকায়' নির্বাচনঃ ফ্রান্সের প্রাক্তন প্রেসিডেণ্ট নিকোলা সার্কোজি গ্রেফতারিত
    france_nicolas_sarkozy.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১ জুলাই ২০১৪, মঙ্গলবারঃ অবৈধভাবে লিবিয়ার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেণ্ট নিকোলা সার্কোজি গ্রেফতারিত হয়েছেন আজ। বলা হচ্ছে, কোনো সাবেক প্রেসিডেণ্ট গ্রেফতারের ঘটনা দেশটির ইতিহাসে এটাই প্রথম।

    ২০১১ সালে ন্যাটোর সহযোগিতায় লিবিয়ার সরকার উৎখাতের অভিযানের সময় তৎকালীন ফরাসী প্রেসিডেণ্টের 'অতি-উৎসাহী' ভূমিকাকে সমালোচনা করে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম দাবি করেছিলেন যে, সার্কোজি 'গাদ্দাফির পয়সায়' ২০০৭ সালের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি সে-সংক্রান্ত লেনদেনের দালিলিক প্রমাণ প্রকাশের হুমকী দিয়ে সে-অর্থ ফেরতও চেয়েছিলেন।

    আজ গ্রেফতারের ঘটনাটিও ঘটেছে সে-একই অভিযোগের সূত্র ধরে। নির্বাচনী প্রচারের জন্য সার্কোজি লিবিয়ার কাছ থেকে 'বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন' এমন দাবির প্রেক্ষিতে এ-নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে। কিন্তু প্রেসিডেণ্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে সে-তদন্তের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন সার্কোজি। উচ্চপদস্থ বিচারক জিলবার্ট এ্যাজিবার্টকে মানাকোতে লোভনীয় পদ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তদন্তের খবরাখবর পাচার করতে সম্মত করান তিনি।
     
    সার্কোজি তদন্তের কাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বলে প্রমাণ পেয়ে ফ্রান্সের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেন। এর আগে গতকাল সোমবার তাঁর আইনজীবী ও দুই ম্যাজিস্ট্রেটকেও আটক করা হয়েছিলো।

    সার্কোজিকে প্যারিসের কাছে নাতেরিতে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সার্কোজিকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী এই মেয়াদ আরো এক দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

    উল্লেখ্য, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতিক নিকোলা সার্কোজি। ২০১৭ সালের প্রেসিডেণ্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন