• গাদ্দাফী-পুত্র দেখা দিয়ে নিশ্চিত করলেনঃ আন্তর্জাতিক আদালতও প্রচার-যুদ্ধে লিপ্ত
    Saif-Gaddafi-appears.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৩ অগাস্ট ২০১১, মঙ্গলবারঃ  লিবিয় নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফীর পুত্রদের - বিশেষ করে, সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফীকে - বিদ্রোহীরা গ্রেফতার করেছে বলে যে ‘সংবাদ’ পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমগুলোতে প্রচার করা হয়েছিলো এবং আন্তর্জাতিক আদালতের চীফ প্রসেকিউটারও যে ‘সত্য’ নিশ্চিত করেছিলো, তাকে সর্ববৈ মিথ্যা প্রমাণিত করে সোমবার-দিবাগত গভীর রাতে ত্রিপলিতে বিশ্ব-সাংবাদিকদের সামনে হাজির হলেন স্বয়ং সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফী। এ্যাজেন্স ফ্রান্স-প্রেস, বিবিসি নিউজ ও ফক্স নিউজের সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাত করে তিনি বলেন, সমস্ত মিথ্যাকে খণ্ডাতে তিনি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক টিভি আল-জাজিরা ও আল-আরাবিয়া এবং প্রভাবশালী প্রায় সকল পশ্চিমা-মিডিয়া আইসিসি'র নিশ্চয়তার বরাত দিয়ে রোববার থেকে গাদ্দাফি-পুত্রদের গ্রেফতারের খবর প্রচার করে।  কিন্তু সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফীর সশরীরে একেবারে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হবার ঘটনাটি তাঁর মিথ্যা গ্রেফতারের খবর পরিবেশন করা সংবাদ সংস্থা এবং 'সত্য-নিশ্চিত' করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদলতের বিশ্বাসযোগ্যতাতে ভূমি-ধ্বস এনেছে।

    উল্লেখ্য, একই ভাবে ব্রিটেইনের বিদেশমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগ ফেব্রুয়ারীতে নিজ-মুখে মুয়াম্মার গাদ্দাফীর ভেনিজুয়েলাতে 'পালিয়ে যাবার' খবর নিশ্চিত করেছিলেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে গাদ্দাফী-কন্যা আয়েশার ব্যাপারেও মাল্টাতে পালিয়ে যাবার মিথ্যা খবর প্রচারিত হয়।

    ত্রিপোলিতে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হওয়া সাইফ গাদ্দাফী বিবিসি'র প্রতিনিধির এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, যে তাঁর পিতা মুয়াম্মার ত্রিপোলিতেই আছেন এবং সেখান থেকেই প্রতিরোধ লড়াইয়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিবিসি'র সাংবাদিক সাইফ গাদ্দাফীকে 'আত্মবিশ্বাসী' দেখাচ্ছিলো বলে মন্তব্য করেন। ত্রিপোলির ক্ষমতার ভারসাম্য কার দিকে হেলানো প্রশ্ন করা হলে গাদ্দাফী-পুত্র জানান, বিদ্রোহীদেরকে ফাঁদে ফেলার জন্যই শহরে ঢুকতে দেয়া হয়েছে এবং তাদের 'মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে' বলে তিনি দাবী করেন। 

    আরেক গাদ্দাফি-পুত্র মোহাম্মদ গাদ্দাফিকেও প্রথমে গ্রেফতারের দাবী করলেও পরে ন্যাটো ও বিদ্রোহীরা বলতে শুরু করে যে, তিনি বন্দীদশা থেকে পালিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ-সংবাদটিও মিথ্যা।

    সাইফ আল ইসলামের পুনঃআবির্ভাবের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হতে শুরু করে মিডিয়া ব্যবহার করে লিবিয়ার বিরুদ্ধে মনো-যুদ্ধের পশ্চিমা কার্যক্রম, যা সামরিক বিশ্লেষকরা গত কয়েকদিন যাবত বলে আসছেন। কিন্তু তাদের এ-পরিকল্পলায় যে আন্তর্জাতিক আদালতেরও অংশগ্রহণ থাকতে পারে, তা সম্ভবত কেউই ভাবতে পারেনি। সংস্থাটির প্রধান লুইস ওকাম্পো এমনও বলেছিলেন যে, 'সাইফকে হেইগে নিয়ে আসার আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হয়েছে'। বিদ্রোহীরাও জানিয়েছিল যে, 'ধৃত' সাইফের সাথে 'ভালো ব্যবহার করা হচ্ছে'।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ত্রিপোলি রক্ষায় নিয়োজিত সরকারী সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত মিলিশিয়াদের মনোবল দুর্বল করার লক্ষ্যেই এ-ধরণের সংবাদ প্রচার চালানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন