• গাদ্দাফী-হত্যার লক্ষ্যে পুরষ্কার ঘোষণাঃ লিবিয়া জুড়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতি-আক্রমণ
    gaddafi_millatary_dress.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৫ অগাস্ট, ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলুশন ভঙ্গ করে মাটিতে লিবিয়ার সেনা-উপস্থিতি গতকাল ফাঁস হয়ে যাবার পর ন্যাটো এবার প্রকাশ্যেই মুয়াম্মার গাদ্দাফীকে খুনের সন্ধানে নেমেছে। আজ কোন রকম রাখ-ঢাক ছাড়াই ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স বলেছেন, 'গাদ্দাফী কোথায় আছে তা আমরা জানি না - তবে তাকে ধরতে ন্যাটো প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।'

    বার্তাসংস্থা এপি জানিয়েছে, ইউরোপের অন্যান্য আরও কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ব্রিটিশ, ফরাসী ও অন্যান্য দেশের 'বিশেষ-বাহিনী বেশ কয়েকমাস যাবত' লিবিয়ার অভ্যন্তরে কাজ করছেন। ইউরোপীয়দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও গাদ্দাফীর সন্ধানে যুক্ত হয়েছে - মনুষ্যহীন ড্রৌন আকাশ যানের সাহায্যে তারা চেষ্টা করছে লিবিয়ার নেতার অবস্থান নির্ণয় করার।

    রাজতন্ত্র ভেঙ্গে লিবিয়ার জন-রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াম্মার গাদ্দাফীকে খুন কিংবা ধরিয়ে দিতে পারলে খুনী বা সন্ধানদাতাকে ২ মিলিয়ন দিনার (১ মিলিয়িন পাউন্ড) পুরষ্কার দেবে বলে ঘোষণা করেছে বিদ্রোহীদের সংগঠন ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল এবং এর এতে সক্রিয় সহযোগিতা করছে ন্যাটো। বেনগাজির একজন ব্যবসায়ীর সৌজন্যে এ-অর্থ দেয়া হবে জানানো হয়েছ। আরও বলা হয়েছে, খুনী বা সন্ধানদাতা অতীতের 'সকল অপরাধও ক্ষমা করে দেয়া হবে' দেয়া হবে।

    এদিকে মুয়াম্মার গাদ্দাফী টেলিফৌনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক-ভাষণে 'বিজয় অর্জন নয়তো শহীদ হবার' শপথ নিয়েছেন। স্থানীয় দু'টো আরবী টিভি চ্যানেলে সরাসরি প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, 'বিশ্বাসঘাতক সকল বিদ্রোহীকে কৌশলে ত্রিপোলিতে টেনে আনা হয়েছে, এখন তাদের নির্মূল করা হচ্ছে'। তিনি দেশবাসীকে আহবান জানান, সকলে যেনো অস্ত্র নিয়ে নিজ-নিজ শহরের দখল প্রতিষ্ঠা করেন।'

    দৃশ্যতঃ গাদ্দাফীর ডাকে সারা দিয়ে গতকাল সমগ্র লিবিয়া-জুড়ে বিদ্রোহীদের উপরে পাল্টা-আক্রমণ করেছে সরকারী সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক সশস্ত্র মিলিশিয়ারা। ত্রিপোলি বিমান-বন্দরের কাছে সরকারী-সেনারা ভারী অস্ত্রে-সজ্জিত হয়ে বিদ্রোহীদের উপর আক্রমণ চালায়। ফলে, বিমান-বন্দরের সাথে বিদ্রোহীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিরতে, মিসরাতা, বিন-যাওয়াদ, ব্রেগা-সহ অন্তত ২০টি শহরে বিদ্রোহীদের উপরে গাদ্দাফীর অনুগত যোদ্ধারা পাল্টা-আক্রমণ চালায় বলে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। অন্যদিকে ন্যাটোর আকাশ-সেনারা ত্রিপোলিতে বোমা-বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

    লিবিয়ার মাটিতে ন্যাটোর সেনা-শক্তি ক্রিয়াশীল থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে। বিভিন্ন গোত্র যারা বিদ্রোহের শুরুতে দৃশ্যতঃ নিরপেক্ষ থেকেছিলো, তারাও এখন গাদ্দাফীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঔপনিবেশিক ইতালির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্মৃতি লিবিয়ায় এখনও জাগরুক। ফলে, বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে গোত্রগুলো সর্বশক্তিতে দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। 

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন