• গৃহযুদ্ধে পতিত ইউক্রেনঃ স্লাভিয়ান্সকে দুই সেনা-হেলিকপ্টার ভূপাতিত, সংঘর্ষে 'বহু হতাহত'
    ukraine_civil_war_helicopter_shotdown.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২ মে ২০১৪, শুক্রবারঃ পশ্চিমা-ঘেঁষা না-কি রুশ-ঘেঁষা সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে ইউক্রেন - এ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে দেশটিতে। আজ বিদ্রোহ-কবলিত পূর্ব ইউক্রেনের স্লাভিয়ান্সকে সরকারী সেনাদের সাথে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অজানা সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিদ্রোহীরা গুলি করে সেনাবাহিনীর দু'টো হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে বলে স্বীকার করেছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেণ্ট। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আরটি'র।

    আজ রুশ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পূর্ব ইউক্রেনে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অনুগত সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে বিদ্রোহীদের সাথে তাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাগ-মাধ্যমগুলো। প্রেসিডেণ্ট ওলেক্সান্দর তুর্চিনভ বলেছেন, স্লাভিয়ান্সক শহরের অন্তত; অর্ধাংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, নগরীতে বিদ্রোহীদের স্থাপিত প্রায় দশটি চেকপৌস্ট সেনাবাহিনী দখল করেছে। তবে বিদ্রোহী 'আত্মরক্ষা বাহিনী' বলছে নগরীতে এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে।

    স্লাভিয়ান্সকে সরকারী সামরিক অভিযান ও এতে প্রাণহানি ঘটায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। আজ দেশটির আহবানে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত এক জরুরী বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি ভিতালি চুর্কিন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, কিয়েভের কর্তৃপক্ষ 'নিজ দেশের নাগরিকদের উপর নির্যাতন' বন্ধ না করলে 'বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোকে দায়ী করে তিনি বলেন, চলমান সঙ্কটের "শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমারা"। নির্দিষ্ট করে তিনি বলেন, সেনা আক্রমণের সময় "ইংরেজী-ভাষীদের কথা শুনতে পাওয়া গিয়েছে"।

    পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ইত্যাদি রাষ্ট্র ইউক্রেনের পরিস্থিতির জন্য রাশিয়াকে পাল্টা দায়ী করে আসছে। আজ জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন তার দুশ্চিন্তা ব্যক্ত করে সকল পক্ষকে ধৈর্য্য ধারণ করতে আহবান জানিয়েছেন।

    প্রেসিডেণ্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ গত বছর নভেম্বরে রাশিয়ার সাথে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যখন একই সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নও চাপ দিচ্ছিলো মুক্ত বাণিজ্যের চুক্তি করতে। তখন থেকে দেশটির রাজধানী কিয়েভের ইউরো-ময়দানে ইউরোপন্থীরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। তৎকালীন সরকার অভিযোগ করেছিলো এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইন্ধন রয়েছে। কয়েকমাসের সহিংসতার পর বিদ্রোহীদের সাথে একটি লিখিত শান্তি-চুক্তি হওয়ার পর-পরই সশস্ত্র বিদ্রোহীদের চাপের মুখে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন ইয়ানুকোভিচ। তখন থেকেই দেশটি অনির্বাচিত 'অন্তর্বর্তীকালীন' সরকারের অধীনে চলছে।

    কিন্তু কৃষ্ণ সাগরের রুশভাষী ইউক্রেনীয় উপদ্বীপ গণভৌটের মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ার সাথে মিলে যাওয়ার পর থেকে রুশ সীমান্তবর্তী রুশভাষী পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলেও বিদ্রোহ দেখা দেয়। বিদ্রোহীরা অন্ততঃ ১২টি শহরে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ভবনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে প্রায় এক মাস ধরে। দুই সপ্তা আগে কিয়েভের কেন্দ্রীয় 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' ভবনগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সেনা-অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন