• গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ডঃ জামায়াতের হরতাল, আওয়ামী লীগের সন্তোষ
    ghulam_azam.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ জুলাই ২০১৩, সোমবারঃ  বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আজ ১৯৭১ সালে সঙ্ঘটিত মানবতা-বিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন নেতা ৯১ বছর বয়েসী গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারা-শাস্তির আদেশ দিয়েছে। এ-রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

    তবে এ-রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও শাহবাগ কেন্দ্রীক আন্দোলনের কর্মীরা। জামায়াত বলছে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর শাহবাগের ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে "এ-শাস্তি যথেষ্ট নয়"। উভয় পক্ষই আগামীকাল মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছে। আসামীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক রায়ের বিরুদ্ধে অ্যাপীল করবেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর আমীর বা দল-প্রধান ছিলেন। তার দল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং তারই নেতৃত্বে দলটি সশস্ত্র মিলিশিয়া গড়ে তোলে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।

    জামায়াতে ইসলামীর তত্ত্বাবধানে গঠিত পাকিস্তানপন্থী শান্তি কমিটী, আল-বদর, আল-শামস ইত্যাদি সংগঠনগুলো বাংলাদেশপন্থী ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীর বিরুদ্ধে  দেশজুড়ে হত্যা-ধর্ষণ-লুণ্ঠন-নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির মাত্র ২ দিন আগে আল-বদর বাহিনী দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করে তাঁদের ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা-বিচারে হত্যা করে।

    রায় ঘোষণায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর বলেন, "গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড মিলিয়ে তাকে টানা ৯০ বছর সাজা অথবা 'আমৃত্যু' জেল খাটতে হবে।" প্রমাণিত অপরাধ আইনানুযায়ী মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য বলেও তিনি স্বীকার করেন। 

    অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও 'প্রাপ্য' মৃত্যুদণ্ডের বদলে কারাদণ্ড দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিচারক বলেন, "তার যে অপরাধ এর সবগুলোই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি আছেন। তার বয়স ও শরীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এই সাজা দেয়া হয়েছে।"

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ-রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ আজ ঢাকায় সাংবাদিকদের জানান, "আমরা এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। যদিও গোটা জাতির প্রত্যাশা ছিল কুখ্যাত এই যুদ্ধাপরাধীর রায় মৃত্যুদণ্ড হবে, শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে তাঁকে ৯০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে"।

    বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও এ-রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, "এই বিচারের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে"। তিনি আরও বলেন, "বিজ্ঞ আদালত যে রায় দিয়েছে তা সবাইকে মানতে হবে"। তাঁর মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, "অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ দেখি না। বিচারটি করতে পারছি এটিই সন্তুষ্টির বিষয়"। 

    গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড না হওয়ার সরকার ও আওয়ামী লীগ সন্তুষ্ট হলেও ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে ফেইসবুক, ট্যুইটার, কমিউনিট ব্লগ-সহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে। ঢাকার শাহবাগে ফেব্রুয়ারীতে শুরু হওয়া 'শাহবাগ আন্দোলন'-এর সাথে জড়িত ছাত্র-কর্মীরা পুনরায় শাহবাগে জড়ো হয়েছেন। উল্লেখ্য, ৬ মে ভোররাতে সরকার পুলিস ব্যবহার করে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়।

    গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্ট ১০টি ছাত্র সংগঠন আগামী কাল সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (খালেকুজ্জামান), ছাত্রফ্রন্ট (মবিনুল হায়দার), ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র সমিতি, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি, ছাত্রঐক্য ফোরাম।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন