• গ্যালোওয়ের কাছে আবারও বিপর্যস্ত লেবার পার্টিঃ এবার ‘ব্র্যাডফৌর্ড বসন্ত’
    George-Galloway.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩০ মার্চ ২০১২, শুক্রবারঃ  ব্র্যাডফৌর্ড ওয়েস্টে অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবারের বাই ইলেকশনে লেবার পার্টির প্রার্থী ইমরান হুসেইনকে দশ সহস্রাধিক ভৌটের ব্যবধানে পরাজিত করে আজ বিজয়ী এমপি ঘোষিত হয়েছেন রেসপেক্ট দলের নেতা ও একসময়ে লেবার পার্টি হতে বহিষ্কৃত এমপি জর্জ গ্যালোওয়ে, আর ঘটনাটিকে আরব বসন্তের সাথে তুলনা করে ‘ব্র্যাডফৌর্ড বসন্ত’ নামে অভিহিত করেছেন বিজয়ী এই বিদ্রোহী।

    লেবার পার্টির চার দশকের নিরাপদ ও নিশ্চিত নির্বাচনী এলাকা ব্র্যাডফৌর্ড ওয়েস্টের এমপি মারশা সিং গত ২৯ ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্যগত কারণে তাঁর পদত্যাগ ঘোষণা করলে উত্তর ইংল্যাণ্ডের ইয়র্কশায়ারের অন্তর্ভুক্ত এই আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গতকাল বৃহস্পতিবার এবং এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৮ জন প্রার্থী।

    নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির প্রার্থী ইমরান হুসেইন যেখানে পেয়েছেন ৮,২০১টি ভৌট, রেসপেক্ট পার্টির নেতা জর্জ গ্যালোওয়ে পেয়েছেন ১৮,৩৪১টি, যা দ্বিগুণেরও বেশি।

    সরকারী দলের কনসার্ভেটিভ প্রার্থী জ্যাকী ওয়াইটলী ২,৭৪৬ ভৌট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করলেও সরকারের ছোটো শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ১,৫০৫ ভৌট পেয়ে ৪র্থ স্থানে তাঁর জামানত হারিয়েছেন।

    লেবার পার্টির জন্য এই পরাজয়কে ‘অবিশ্বাস্য রকমের হতাশাব্যঞ্জক’ বলে মন্তব্য করেছেন লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যাণ্ড। তিনি মনে করেন এ-পরাজয়ের পেছনে স্থানীয় ‘ফ্যাক্টর’ কাজ করেছে।

    মিলিব্যাণ্ড বলেন, ‘স্পষ্টতঃ ওখানে স্থানীয় ফ্যাক্টর ছিলো, কিন্তু আমি এও বলবো যে, ১০ জনের মধ্যে মাত্র চারজন ভৌটার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে ভৌট দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ-রকমটি ঘটার পেছেনে কী কারণ রয়েছে, তা আমাদের বুঝতে হবে।’

    বিজয়ী প্রার্থী জর্জ গ্যালোওয়ে বলেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে জনগণের ‘এ্যালিয়েনেশন’ বা বিমুখতা ও বিচ্ছিন্নতাই ব্র্যাডফৌর্ড ওয়েস্ট নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছেন।

    রেডিও ফৌর-এর ওয়ার্ল্ড এ্যাট ওয়ানকে দেয়া সাক্ষাতকারে গ্যালোওয়ে বলেন, ‘এটি ছিলো খানিকটা জোয়ারের ঢেউয়ের মতো যা সমগ্র দেশ জুড়ে আছড়ে পড়ার জন্য অপেক্ষা করছে।’

    গ্যালোওয়ে বলেন, ‘গণবেকারত্ব, দারিদ্র, শিক্ষার নিম্ন পরিসংখ্যান, নিম্ন মানের স্বাস্থ্য এবং প্রত্যাখাত হওয়ার একটি সাধারণ বোধ ও উদ্বেগ রয়েছে ব্র্যাডফৌর্ডের মতো শিল্পোত্তর নগরীগুলোতে।’

    ‘প্রধান স্রোতধারার রাজনৈতিক দলগুলো থেকে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন... কনসার্ভেটিভ, লিবডেম ও লেবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই - অন্ততঃ কারও নজর কাড়ার মতো যথেষ্ট পার্থক্য নেই।’

    তিনি এ-ফলাফলকে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের ‘শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অভূত্থান’ বলে অভিহিত করেন।

    উল্লেখ্য, লেবার পার্টির বিরুদ্ধে জর্জ গ্যালোওয়ের এ-রকম বিজয় এই প্রথম নয়। ২০০৫ সালে পূর্ব-লণ্ডনের বাঙালী-অধ্যুষিত বেথনাল গ্রীন নির্বাচনী আসন থেকে একই ভাবে লেবার দলের প্রার্থী ওনা কিংকে হারিয়ে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচিত হন।

    প্রাক্তন লেবার দলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকারের ইরাক হামলা ও যুদ্ধ-নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার কারণে তিনি ২০০৩ সালে লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং যুদ্ধ-বিরোধী কতিপয় বামপন্থী দলের সমর্থন নিয়ে রেসপেক্ট নামের রাজনৈতিক ঐক্যমঞ্চ গঠন করে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে নিজস্ব একটি ধারার জন্ম দেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন