• গ্রীসের খামারে বাঙালী শ্রমিকের উপর গুলির মামলাঃ মালিক ও ম্যানেজার বেকসুর খালাস
    greece_bengali_migrant_workers_attacked.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩০ জুলাই ২০১৪, বুধবারঃ গত বছর প্রায় ২০০ বাঙালী শ্রমিকের উপরে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করার পরও বেকসুর খালাস পেয়েছে গ্রীসের এক স্ট্রবেরী খামারের ম্যানেজার। মানব পাচার ও দাসোচিত শ্রমে নিযুক্ত করার অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছে সে-খামারের মালিক। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই জমাদারকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ও তা ব্যবহারের অপরাধে।

    গত বছরের ১৭ এপ্রিল গ্রীসের একটি স্ট্রবেরী খামারে ছয় মাসের বকেয়া বেতনের দাবীতে জড়ো হওয়া ২০০ বাঙালী কর্মীর উপর এলোপাথারি গুলি চালিয়েছিলো সেখানকার ম্যানেজার ও দুই জমাদার। ঘটনার পরই তারা পালিয়ে যায় এবং পুলিস খামারের মালিককে গ্রেফতার করে। গ্রীক সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে দ্রুত ও নজিরমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে অপরাধীদেরকে।

    সে-আক্রমণে অন্ততঃ ২৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক আহত হয় বলে জানিয়েছিলো সংবাদ-মাধ্যমগুলো। যদিও জাতিসঙ্ঘের রিফিউজি এজেন্সি জানিয়েছিলো, ৯২ জন বাঙালী বকেয়া বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ করছিলো যার মধ্যে ৩৫ জন গুলিতে আহত হয়।

    জমাদারদের মধ্যে একজনকে ১৪ বছর সাত মাস ও অন্যজনকে আট বছর সাত মাসের কারাদণ্ড  দিয়েছে পাত্রা নগরের আদালত। আজ প্রকাশিত এ-রায়ের প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সাজাপ্রাপ্তরা রায় পুনঃবিবেচনার আবেদন বা আপীল করতে পারবেন এবং তা নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত তারা মুক্তই থাকবেন।

    বাঙালী শ্রমিকরা এ-রায়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম পাত্রাস টাইম্‌সের প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে বাঙালী শ্রমিকরা এ-রায়ের প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ-সভা করছে।

    বাঙালী শ্রমিকদের উপর হামলা, মামলা ও রায়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও গ্রীসের বামপন্থী ও মানবাধিকার মহল ব্যাপক নিন্দা করেছে এ-রায়ের। আলেক্সিস তিসিপ্রাসের র‍্যাডিক্যাল বামপন্থী দল সিরিজার একজন সাংসদ ভাসিলিকি কাত্রিভানু বলেছেন, "[এ-রায়ের] এমন বার্তা পাঠানো হলো যে বিদেশী কর্মীরা এদেশের বাগানে কুকুরের মতো মরতে পারে।"

    এছাড়াও, বর্ণবাদ-বিরোধী সংস্থাগুলোও এ-রায়কে 'কেলেঙ্কারি' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। মুভমেণ্ট এগেইন্‌স্ট রেইসিজম্‌ এ্যাণ্ড ফ্যাসিস্ট থ্রেটের সমন্বয়ক পেত্রোস কন্সতান্তিনু বলেছেন, "ইউনিয়ন ও মানবাধিকার আন্দোলনগুলোকে আমরা আহবান করি এমন অদৃষ্টপূর্ব কলঙ্কজনক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে।"

    গত বছরের ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করে একটি আন্দোলন গড়ে উঠেছে। ট্যুইটারে #manolada ও #bloodstrawberries এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা এ-সম্পর্কিত খবরাখবর আদান-প্রদান করছেন।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন