• গ্রীসে অর্থনৈতিক মন্দাঃ ১২০,০০০ প্রশিক্ষিত পেশাজীবী দেশ ছেড়েছে
    greece_unemployment_brain_drain.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১১ এপ্রিল ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ  অর্থনৈতিক দূরবস্থার কারণে ২০১২ সাল থেকে এ-পর্যন্ত গ্রীস ছেড়েছেন অন্ততঃ ১২০,০০০ উচ্চশিক্ষিত বা প্রশিক্ষিত পেশাজীবী। গ্রীসের বৃহত্তম বিদ্যায়তন এরিস্টোটল  ইউনিভার্সিটি অফ থেসালৌনিকির এক সমীক্ষায় উদ্‌ঘাটিত হয়েছে এ-তথ্য। স্বদেশে বেকারত্ব সইতে না পেরে তারা কর্মের সন্ধানে ছড়িয়ে পড়েছেন প্রধানতঃ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

    গ্রীসকে অর্থমন্দা থেকে রক্ষার ঘোষিত উদ্দেশ্যে বেইল-আউটের ঋণ নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে ত্রৈকা -তথা আইএমএফ, ইউরোপীউ ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তবে বিনিময়ে তারা দেশটির অর্থনীতির উপরে চাপিয়ে দিয়েছে অভূতপূর্ব কৃচ্ছতার শর্ত। ফলে সরকারী খাতের প্রায় সব সেবা ও সম্পদই বিক্রি করে দিতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের কাছে। ছাটাই করা হয়েছে সরকারী কর্মী, কমানো হয়েছে বেতন, আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অনেক সরকারী পরিষেবা।

    প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ২০১২ সাল থেকে এ-পর্যন্ত দেশ ছাড়া পেশাজীবীদের মধ্যে রয়েছে প্রধানতঃ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ইত্যাদি পেশার লোকেরা। সমীক্ষার মুখপাত্র বলেন, 'দেশ-ছাড়া তরুণ বিজ্ঞানীদের সংখ্যা আমাদের মোট সম্ভবনার ১০% ছুঁয়েছে, যা অত্যন্ত বেশি'। তিনি আরও বলেন, 'এদের অর্ধেকেরও বেশির পৃথিবীর সেরা-১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ডিগ্রী রয়েছে'।

    সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী গ্রীসের বেতারত্ব এখন ২৬%-এরও বেশি, যা সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ। ছয় বছর ধরে দেশটির অর্থনীতি ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে।

    আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে প্রায় ৫ বছর ধরে চলছে উচ্চমাত্রার অর্থনৈতিক মন্দা। এর আবশ্যিক ফলরূপে ব্যপকহারে বেড়েছে বেকারি। তার মধ্যে যে-সকল দেশের অর্থনীতিতে শিল্প-পণ্যের রপ্তানির ভূমিকা কম অথবা আকারে ক্ষুদ্রতর তাদের সমস্যা অন্যদের চেয়ে বেশি। ইউরোপের গ্রীস, আয়ারল্যাণ্ড, সাইপ্রাস ইত্যাদি দেশে এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। তবে জার্মানী বা ফ্রান্সের মতো বৃহত্তর ও শিল্প-প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্ত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন