• গ্রীসে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভবনাঃ এড়াতে প্রচণ্ড চাপ বিদেশী ঋণ-দাতাদের
    greece_eu_pressure.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ মে ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  গ্রীসের নির্বাচনে প্রথম-হওয়া মধ্য-ডানপন্থী দল নিউ ডেমোক্র্যাসী গত সপ্তাহে ব্যর্থ হবার পর দ্বিতীয়-হওয়া দূর-বামপন্থী জোট সিরিজাও এবার ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকার গঠনে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয়-হওয়া সৌশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক ধারার পাসোক দলকে আজ দেশটির প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তারাও ব্যর্থ হলে, গ্রীক সংবিধান মোতাবেক আবারও নির্বাচন দেয়া হবে, যা আগামী মধ্য-জুনের মধ্যেই হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    কঠোর রাষ্ট্রীয় সঙ্কোচনের শর্তে বৈদেশিক ঋণ তথা 'বেইল আউট' নেয়াকে কেন্দ্র করে গ্রীসের 'দ্বি-দলীয়' রাজনীতিতে বড়ো ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে বাম-জোট সিরিজার দ্বিতীয় হওয়ার মধ্য দিয়ে। প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে কোয়ালিশন সরকার গঠনে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন সিরিজার প্রধান এ্যালেক্সিস টিসিপ্রাস। তবে তাঁর আশা, পুনরার ভৌট হলে  সিরিজা 'প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে'। দৃশ্যতঃ গ্রীসের ভৌটাররা বেইল আউট নেয়ার তীব্র-বিরোধী, যার প্রতিফলন রাজপথে বিক্ষোভ থেকে ভৌটের বাক্সে পর্যন্ত পড়েছে।

    কিন্তু ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী দেশগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে পুনঃনির্বাচন ঠেকাতে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই কৌশলেই চাপ সৃষ্টি করছে গ্রীসের উপরে। একাধিক ইউরোপীয় নেতা সরাসরি টেলিফৌনে কথা বলেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে।

    এ-ফৌনালাপ সমন্বয়কারী একজন ইউইউ-কর্মকর্তা বলেছেন, 'অবশ্যই পরিস্থিতির গুরুত্বের ব্যাপারে আমরা খুবই সচেতন এবং আমরা আমাদের বার্তা খুব দৃঢ়তার সাথে  পৌঁছাচ্ছি' - জানাচ্ছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ঐ-কর্মকর্তা আরও বলেন, 'শুধু আমরাই নই, এ-বার্তা আসছে সবখান থেকেই'।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা জার্মানীর চ্যান্সেলার এঞ্জেলা মার্কেল, তাঁর অর্থমন্ত্রী ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক প্রকাশ্যে গ্রীসকে বেইল আউটের শর্তে অটল থাকতে বলেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাইছে, যদি আবার নির্বাচন হয়ও, তাতে যেনো বেইল আউটের শর্ত ও অভিন্ন ইউরো মূদ্রায় থাকতে ইচ্ছুক দল বা জোটই বিজয়ী হয়।

    এদিকে রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও গ্রীসের ওপরে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ফাইনান্‌শিয়্যাল স্ট্যাবিলিটি ফাণ্ড (ইএফএসএফ) গ্রীসে বেইল আউটের আগামী কিস্তির অর্থ প্রদান স্থগিত করেছে গতকাল। ১৭ ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ইএফএসএফ পরিচালনা পর্ষদ পূর্ব-নির্ধারিত ৫.২ বিলিয়ন ইউরোর মধ্যে ৪.২ বিলিয়ন অবমুক্ত করেছে।

    গ্রীস যদি তার সার্বভৌম-ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা জানায় কিংবা ইউরো মূদ্রা ত্যাগ করে, তাহলে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদিও দৃশ্যতঃ গ্রীসের জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, তারা তা-ই চান, কিন্তু বিদেশী ঋণ-দাতারা চাইছেন ঠিক তার বিপরীতটি।

    ইউকেবেঙ্গলি লক্ষ্য করছে, প্রাচীন নগর-রাষ্ট্রীয় সভ্যতার অগ্রপথিক গ্রীস প্রায় তিন সহস্রাব্দ পর আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো পুঁজিবাদী অর্থনীতির সঙ্কটাক্রান্ত ইউরোপের সামনে-চলার পথ নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন