সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা কমে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে
এক দশকের কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটের হার ব্যাপকভাবে কমে যাবার হিসাব পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার শিল্পোন্নত-ধনী দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন ফর কৌ-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট (ওইসিডি)কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন-মতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েশনকারী ছাত্র-ছাত্রীর হার এমনকি পূর্ব ইউরৌপের স্লোভাকিয়া, পৌল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকের চেয়েও কম। বিদ্যমান পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক মহল।
ওইসিডি জানিয়েছে, গ্র্যাজুয়েশনকারীর হারের দিক থেকে ২০০০ সালে শিল্পোন্নত-ধনী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ছিলো তৃতীয় স্থানে। কিন্তু মাত্র আট বছরের ব্যবধানে দেশটি ১৫তম স্থানে নেমে গেছে। ওইসিডি এর এডুকেশন অ্যাট অ্যা গ্ল্যান্স শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয় যুক্তরাজ্যের এ-অবস্থান ওইসিডি-ভূক্ত দেশগুলোর গড়-অবস্থার নীচে। ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে ৩৭% তরুন গ্র্যাজুয়েশন সমাপ্ত করতো যা ছিলো ডেনমার্ক ও নরওয়ের সমমাত্রার। সে-সময় যুক্তরাজ্যের চেয়ে এগিয়ে থাকা দেশ দুটি ছিলো ফিনল্যান্ড (৪১%) ও নিউজিল্যান্ড (৫০%)। কিন্তু ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এ-হার ৩৫% নেমে এসেছে যা ওইসিডি এর গড় হারের (৩৮%) চেয়ে নীচে।
এছাড়াও উচ্চ শিক্ষাখাতে সরকারী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বেশ পিছিয়ে আছে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারের বর্তমান অবস্থান অব্যাহত থাকলে ২০১৩ সালের মধ্যে উচ্চ শিক্ষা খাতে ১ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়-সঙ্কোচন করা হবে যুক্তরাজ্যে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে উচ্চ শিক্ষাতে সরকারী বিনিয়োগের হার জিডিপি’র ০.৭%। ওইসিডিতে এখাতে বিনিয়োগের গড়-হার ১%। উচ্চ শিক্ষাতে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, জার্মানীর মত ধনী দেশগুলো ছাড়াও পৌল্যান্ড বা স্লৌভেনিয়ার মত দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে যুক্তরাজ্য। ওইসিডি এর মতে, দীর্ঘ-মেয়াদী সুফলের কথা বিবেচনা করলে উচ্চ শিক্ষাতে বিনিয়োগ অনেক লাভজনক। সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত হিসাবমতে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট তার জীবন-কালে একজন স্কুল-পাস ব্যক্তির চেয়ে আয়কর ও সামাজিক অনুদান হিসাবে সাড়ে ৭৭ হাজার পাউন্ড বেশি অর্থের যোগান দেয়।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে ওইসিডি এর ইন্ডিকেটর্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস শাখার প্রধান অ্যান্দ্রিয়াস স্কেলেইচার বলেন, “যুক্তরাজ্য বহু বছর ধরে [উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে] একবারে সামনের সারিতে ছিলো।” তিনি আরো জানান ফিনল্যান্ড, কানাডা ও জাপানের মত দেশগুলো এখন উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের উপাচার্যদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি ইউকে (ইউইউকে) মনে করছে ‘‘বিনিয়োগের নিম্মহারের” মুখে যুক্তরাজ্য আর কতদিন উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ব-পর্যায়ে সেরা অবস্থান টিকিয়ে রাখতে পারবে তা নিয়ে এখন প্রশ্ন করার সময় এসেছে। ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেলী হান্ট জানান ওইসিডি এর প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অবনতিশীল পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।০৭/০৯/১০