• ঘূর্ণিঝড় স্যাণ্ডির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আমেরিকা মহাদেশঃ ১৬০ প্রাণহানি
    america_storm_sandy_satellite_image.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১ নভেম্বর ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ আট্‌লান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঝড় 'স্যাণ্ডি' হারিকেনে রূপ নিয়ে আমেরিকা মহাদেশে আছড়ে পড়তে শুরু করে গত ২৪শে অক্টোবর থেকে। প্রথমে জ্যামাইকা, তারপর কিউবা, বাহামা, হাইতি, ডমিনিকান রিপাবলিক ও বারমুডায় আঘাত করতে করতে শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-উপকূল ও ক্যানাডায় গিয়ে।

    আক্রান্ত দেশগুলোতে এ-পর্যন্ত সর্বমোট ১৬০ জন ব্যক্তির প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে, সেই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্ততঃ ২২ জন। প্রাথমিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ঝড়ের আঘাতে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের।

    যুক্তরাষ্ট্রে অন্ততঃ ২০টি অঙ্গরাজ্য স্যাণ্ডির কবলে পড়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি রাজ্য-দু'টো। ঝড়ের কবলে পড়ে অন্ততঃ ৮৮ জন মার্কিন নাগরিক মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ-মাধ্যমগুলো। 

    কয়েক কোটি মার্কিন নাগরিকের বিদ্যুত-সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। দোকান-পাট, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস - প্রায় সকল ধরণের নাগরিক কার্যক্রমই থেমে গিয়েছে আক্রান্ত রাজ্যগুলোতে।

    নিউ ইয়র্ক রাজ্যে এ-পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪-এ। ঘূর্ণিঝড়ের কারনে রাজ্যটিতে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় আণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, বন্ধ হয় নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেইঞ্জ।

    এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্লোরিডা, উত্তর ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন, ডেলাওয়ার, পেন্‌সিলভ্যানিয়া, নিউ ইংল্যাণ্ড, মিশিগ্যান, কেন্টাকি।

    জ্যামাইকার বিদ্যুত বিভাগ জানিয়েছে হারিকেনের আঘাতে দেশটির বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল; অন্ততঃ ৭০ শতাংশ গ্রাহক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বিদ্যুত-সেবা থেকে। সংবাদ-সংস্থা এপি'র জানিয়েছে, 'দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব বাড়ির ছাদ উড়ে গিয়েছে'।

    কিউবায় হারিকেন স্যাণ্ডির আঘাতে অন্ততঃ ১১ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ-পর্যন্ত করা হিসেবে জানানো হয়েছে, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৮০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর আগে ২০০৫ সালে আঘাত হানা হারিকেন ডেনিস ১৬ জন কিউবান নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো।

    হাইতিতে 'স্যাণ্ডি' আঘাত হানে ২৯ তারিখে, কেড়ে নেয় অন্ততঃ ৫৪টি প্রাণ। দেশটি ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পরবর্তী কলেরা মহামারির আঘাত এখনও সামলে উঠতে পারেনি। হারিকেন ও তার সাথে আসা জলোচ্ছাসে ভেসে গিয়েছে দেশটির ফসল। আশঙ্কা করা হচ্ছে শীঘ্রই ব্যাপক মাত্রার খাদ্য-সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে হাইতি।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন