সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- চিলিতে খনিতে আটক ৩৩ শ্রমিক জীবিতঃ মনোবল দৃঢ়
১৭ দিন আগে মাটির নীচে আটকে পড়া ৩৩ জন খনি-শ্রমিকের মধ্যে সবার বেঁচে থাকার খবর পাওয়া গেছে চিলি থেকে। ভূ-পৃষ্ঠের ২,২৫৭ ফুট নীচে আটক হয়ে থাকা এই শ্রমিকদের সাথে প্রথমবারের মত যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে সোমবার। শ্রমিকরা জানিয়েছেন তারা সকলে সুস্থ-সবল আছেন এবং তাদের মনোবল দৃঢ় আছে। চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা জানিয়েছেন উত্তর চিলির কোপিয়াপো শহরের কাছে অবস্থিত সান হোসে খনির আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে চার-মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
খবরে প্রকাশ, ৫ আগস্ট সান হোসে তামা খনিতে বিপর্যয়ের পর থেকে নিরবিচ্ছিনভাবে উদ্ধার-অভিযান পরিচালনাকারী দলটি ২,২৫৭ ফুট পর্যন্ত প্রোব (Probe) দিয়ে ড্রিল করার পরে আটকে পড়া শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। এতদিন ধরে নানান ভাবে নানা জায়গায় ড্রিল করার পরেও আটকে পড়া শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগে সাফল্য পাওয়া যাচ্ছিলো না। উদ্ধারকারীদের সাথে যোগাযোগের পরপর একটি প্রোব এর সাথে বেঁধে মাটির নীচ থেকে দলের পক্ষে পাঠানো এক বার্তায় শ্রমিকরা জানান, “আমরা ৩৩ জনের সকলেই বর্তমান আশ্রয়-স্থলটিতে খুব ভালো আছি।” আটকেপড়া শ্রমিকদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ মারিও গোমেজ (৬৩) জানান তারা সকলে ভালো আছেন এবং যে-পরিস্থিতির মধ্যে আছেন সে-ব্যাপারে সকলে সচেতন আছেন। গোমেজ আরো জানান শ্রমিকদের সকলের মনোবল অটুট আছে। খনি-শ্রমিকের সঙ্গে থাকা নোট বইয়ের পাতা ব্যবহার করে মাটির নীচ থেকে প্রেরিত বার্তাটিতে গোমেজ লেখেনঃ “আমি সবাইকে বলছি যে আমি ভালো আছি এবং এমনকি মাসের পর মাস ধরে অপেক্ষা করতে হলেও আমরা সুস্থ অবস্থাতে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে নিশ্চিত।” মাটির নীচ থেকে পাঠানো বার্তাতে গোমেজ জানান শ্রমিকরা ইতিমধ্যে পানীয় জলের একটি ধারা তৈরী এবং একটি ট্রাক ইঞ্জিন থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে খনির অন্ধকার দূর করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন শ্রমিকের ছোট একটি ক্যামেরাতে ধারণকৃত ভিডিওতে মাটির নীচে আটক শ্রমিকদেরকে বেশ স্বাভাবিক অবস্থাতে বিচরণ করতে দেখা যায়।
শ্রমিকদের কাছ থেকে পাওয়া বার্তাটির ব্যাপারে অনুভূতি ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট পিনেরো বলেন, “সামান্য কয়েকটি মাত্র শব্দ কখনোই একটি জাতির জীবনে এতটা উচ্ছ্বাস বয়ে আনেনি।” তিনি আরো বলেন, “উত্তেজনা আর আনন্দে পুরো চিলি কাঁদছে।” কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের খোঁজ পাবার পর থেকে প্রোবের সাথে বেঁধে খাবার, পানীয়, ওষুধসহ নানা ধরনের আবশ্যক জিনিষ-পত্র পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। শ্রমিকদের সন্ধান পাবার সাথে-সাথে বন্ধু-স্বজন সহ চিলি-জুড়ে মানুষ-জনের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে। তবে চিলির প্রেসিডেন্ট অফিস সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে প্রকাশ, আটকে-পড়া ৩৩ শ্রমিককে বের করে নিয়ে আসার জন্য কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী দলের প্রধান প্রকৌশলী আন্দ্রে সগার্তে জানান শ্রমিকদের বের করে আনার ৬৬ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি শ্যাফট খুঁড়ে কমপক্ষে ১২০ দিন সময় লেগে যাবে। ৬৬ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি শ্যাফট খোঁড়া হয়ে গেলে শ্রমিকদেরকে একজন-একজন করে বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, শ্রমিকদের সন্ধান পাবার পর থেকেই বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার উপযোগী যন্ত্রপাতি চিলিতে নেয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাটির নীচে বাতাস, খাবার ও পানীয় জলের বন্দোবস্ত থাকলে তামা ও লোহার খনিতে আটক মানুষদের তেমন একটা বিপদের সম্ভাবনা থাকেনা। তবে দীর্ঘদিন ধরে মাটির নীচে আটক থাকার এক-পর্যায়ে মানসিক চাপের ব্যাপারটি বড় হয়ে উঠতে পারে।
২৩/০৮/১০