• চিল্‌কট রিপৌর্টে উন্মোচিত ইরাক যুদ্ধের পশ্চাৎপটঃ দায় নিয়েও অননুতপ্ত ব্লেয়ার, কর্বিনের ক্ষমা প্রার্থনা
    bush_blair_2004.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ জুলাই ২০১৬, বুধবারঃ ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেইনের অংশগ্রহণের প্রকৃত কারণ ও ফলাফল নির্ণয়ে ২০০৯ সালে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত 'চিল্‌কট' তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে, সে-যুদ্ধে যাওয়া ব্রিটেইনের জন্য অত্যাবশ্যক ছিলো না। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের হুমকির কথাও বাড়িয়ে বলেছিলেন তৎকালীন লেইবার সরকারের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। তাঁর সাথে আমেরিকার সম্পর্ক ও ইরাক যুদ্ধ-পূর্ব তৎপরতারও সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    তবে, টনি ব্লেয়ার এখনও দাবী করছেন তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিলো। নিজের সমর্থনে তিনি আজ বলেছেন, "সাদ্দাম হোসেনকে সরানোই উত্তম হয়েছে"। তিনি আরও দাবী করেন, তিনি যা করেছেন তা ব্রিটেইনের স্বার্থের সেরা সংরক্ষার্থেই করেছেন। অবশ্য তিনি এও বলেছেন, ইরাক যুদ্ধে যা ভ্রান্তি হয়েছে তার দায়িত্ব তিনিই নেবেন।

    বর্তমান লেইবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিন - যিনি তীব্রভাবে ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন - আজ দলের পক্ষ হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ইরাকী জনগন ও যুদ্ধে হতাহত ব্রিটিশ সৈনিক ও তাদের পরিবারের কাছে। ২০০৩ সালে প্রায় এক কোটি যুদ্ধ-বিরোধী লোকের সমাবেশ হয়েছিলো লণ্ডনে, যার অগ্রভাগে ছিলেন কর্বিন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে যুদ্ধে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না, তা সত্য নয়। কারণ শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের সকল পথ তখনও বন্ধ হয়ে যায়নি। যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তি গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কথা বলেছিলেন প্রধানন্ত্রী ব্লেয়ার তাও ভ্রান্তিপূর্ণ বলে সাব্যস্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

    এছাড়াও, সন্দেহিত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের হুমকি যে মাত্রায় ছিলো বলে ব্লেয়ার ব্রিটেইনের জনগণকে জানিয়েছিলেন তাও পুরোপুরি ন্যায্য নয়। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তিনি পার্লামেণ্টকে বলেছিলেন, "সাদ্দাম হোসেনের রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার পরিকল্পনা রয়েছে যা ৪৫ মিনিটের মধ্যে চালু করা সম্ভব"।

    ইরাক যুদ্ধের আইনগত ভিত্তি নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে চিল্‌কট প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, যে পরিস্থিতিতে ইরাকে যুদ্ধে যাওয়াকে আইনসম্মত বলে নির্ধারণ করা হয়েছিলো, তা মোটেও সন্তোষজনক নয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের পর ইরাকে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে, তা মোকাবেলায় উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে ব্লেয়ার সরকার।

    দুই মিলিয়নেরও বেশি শব্দে লিখিত বিশাল এ-প্রতিবেদনের যতটুকু এখন পর্যন্ত ইউকেবেঙ্গলি অনুধ্যান করেছে তার মধ্যে আরও অন্ততঃ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে রয়েছেঃ মার্কিন প্রেসিডেণ্ট জর্জ বুশের সঙ্গে টনি ব্লেয়ারের 'বিশেষ' সম্পর্ক। ইরাকে হামলার আগের বছর জর্জ বুশের পাশে থাকার শর্তহীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার। এক গোপন বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, "আমি আপনার সাথেই আছি, যাই ঘটুক।...সাদ্দাম হোসেনকে সরানোই ঠিক। সে একটা হুমকি।"

    স্যার জন চিল্‌কটের নেতৃত্ব পরিচালিত এ-তদন্ত সম্পন্ন করতে প্রায় এক কোটি পাউণ্ড ব্যয়িত হয়েছে। অতীতে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ ঘোষনা করেও তা পেছানো হয়। আজ প্রায় সাত বছর পর এ-প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো পাঁচ সদস্যের চিল্‌কট কমিটীর তদন্ত।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন