• চীনের নয়া ঘোষিত 'অন্তরীক্ষ-নিরাপত্তা এলাকা' মার্কিন বোমারু বিমানের লঙ্ঘন

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৬ নভেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবারঃ জাপানের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিতর্কিত সেঙ্কাকু বা দিয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জের আকাশসীমাকে আওতায় এনে গত সপ্তাহান্তে নতুন অন্তরীক্ষ-নিরাপত্তা এলাকা ঘোষণা করেছে চীন। জাপানের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র গতকাল এর জবাবে এক জোড়া পারমাণবিক বোমারু বিমান উড়িয়েছে সে-এলাকায়।

    অন্তরীক্ষ-নিরাপত্তার এ-ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক নাম এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জ়ৌন (এডিআইজ়েড)। এর মাধ্যমে সকল বিদেশী সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজকে এ-সীমায় প্রবেশের পূর্বে চীনের কাছে পরিচয় জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইতে হবে - অন্ততঃ চীন তা-ই দাবী করছে। তবে নতুন আকাশ-সীমা ঘোষিত হওয়ার ৩ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের সে-দাবীর প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে।

    বিমানের পরিচয় প্রকাশের তোয়াক্কা  না করেই মার্কিন বিমানবাহিনী গতকাল দু'টো বি-৫২ পারমাণবিক বোমারু বিমান উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে এ-সীমার মধ্য দিয়েই। আজ পেণ্টাগনের একজন মুখপাত্র কর্ণেল স্টিভ ওয়ারেন নিশ্চিত করেছেন এ-তথ্য। লক্ষ্যনীয়ভাবে, তিনি বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জকে জাপানীদের মতো সেঙ্কাকু নামে অভিহিত করেন, যা চীনাদের কাছে দিয়াওয়ু নামে পরিচিত।

    ক্ষুব্ধ জাপানও অনুরূপ পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। জাপানের সবচেয়ে বড়ো দুই এয়ারলাইন্‌স এএনএ এবং জাপান এয়ারলাইন্‌সকে সরকার বলেছে চীনের নতুন আকাশ-সীমায় পরিচয় প্রদান থেকে বিরত থাকতে, অর্থাৎ তা না মানতে।

    আলোচিত সেঙ্কাকু বা দিয়াওয়ু নামের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন-জাপানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ১৮৯৫ সালে জাপান দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বর্তমানে তাদেরই কব্জায় রয়েছে। তবে শতো-শতো বছর ধরে এগুলোর মালিক বলে দাবী করে চীন। ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সন্নিকটে অবস্থিত এ-দ্বীপগুলোর চারপাশে তেল ও গ্যাস-সহ মূল্যবান খনিজ ও জলজ সম্পদ থাকার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন