• জন্মসূত্রে মার্কিন নয়ঃ ওবামাকে প্রেসিডেন্ট-অযোগ্য ঘোষণার ব্যর্থ রিট

    প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামা জন্ম-কালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন না বলে তাকে সে-দেশের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার দাবীতে দায়েরকৃত একটি মামলা আদলতে খারিজ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কৌর্ট এ-মামলার জন্য 'রিট অফ সার্টিয়োরারি' - উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতে মামলা-শুনানির নির্দেশ -  অনুমোদন না করাতে মামালাটি সোমবার খারিজ হয়ে যায়।

    খবরে প্রকাশ, বারাক ওবামার জন্ম-কালীন নাগরিকত্বের ব্যাপারটি উল্লেখ করে নিউ জার্সীর এক আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের গঠনতন্ত্রের বিধান-মতে তাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে অযোগ্য ঘোষণার দাবী জানিয়ে এ-মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, পিতা উপনিবেশিত কেনিয়ার বিটিশ প্রজা হবার কারণে জন্ম-কালে বারাক ওবামা মার্কিন নয় বরং ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে, জন্ম-সূত্রে  নাগরিক না-হলে কেউ সে-দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

    উল্লেখ্য, নির্বাচিত হবার আগেও জন্ম প্রসঙ্গে প্রশ্ন উত্থাপিত  হলে ওবামার নির্বাচনী 'ক্যাম্পেইন টীম' ইন্টারনেটে তার 'বার্থ সার্টিফেকেইট' প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যে তিনি ১৯৬১ সালের ৪ঠা অগাস্ট হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জন্ম গ্রহণ করেন। হাওয়াইর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওবামার 'বার্থ সার্টিফিকেইট' পরীক্ষা করে তার সঠিকতা নিশ্চিত করার পর আর কোনো কথা  উঠেনি।

    পিতৃ-সূত্রে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হবার আইনুসারে ওবামা জন্মকালে মার্কিন ছিলেন না এবং জন্ম-সূত্রে মার্কিন না হলে কেউ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না বিধানটি উল্লেখ করে নিউ জার্সির অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী লিও ডৌনোফ্রিও মামলা করলে তা গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়। মামলাটিকে 'হাই-প্রৌফাইল' হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কৌর্টের বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থৌমাস মামলার বিবরণীটি অন্যানা বিচারপতির কাছে তা পাঠের জন্য পাঠান।

    মামলার বিবরণীর পাঠে বলা হয়, 'যেহেতু বারাক ওবামার জনক ছিলেন কেনিয়ার নাগরিক ও সেহেতু সেনিটর ওবামার জন্মের সময়ে যুক্তরাজ্যের কর্তৃত্বাধীন, সুতারাং  জন্ম-কালে সেনিটর ওবামা ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক, অতএব মূল জন্ম-সনদ দেখিয়ে মার্কিন-ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে প্রমাণ করার পরও তিনি প্রেসিডেন্ট হবার জন্য যোগ্য নন।'

    মার্কিন আদালত-সূত্রে জানা যায়, ঊল্লেখিত মামলাটির শুনানি জন্য উচ্চ-আলাদত থেকে যে অনুমোদন দরকার, সেই অনুমোদন- যাকে আইনের পরিভাষায় 'রিট অফ সার্টিয়োরারি' বলা হয়- তা দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কৌর্ট। এর ফলে দায়েরকৃত মামলাটি খারিজ  হয়ে গেলো আপনাতেই।

    বিশ্লেষকদের মতে, মামলাটি শুনানির জন্য অনুমোদন পেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি বড়ো ধরণের উত্তেজনার সৃষ্টি হতো। অনেকের মতে, শুনানি হলেও আদালতের রায় যদি ওবামার বিরুদ্ধে যেতো, বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব হতো কি-না তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।

    লন্ডনঃ ৮ ডিসেম্বর ২০০৮

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন