• জর্ডানে জনতার জয়ঃ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদ নিয়োগের ক্ষমতা ছাড়বেন আব্দুল্লাহ
    KingAbdullah.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১২ জুন ২০১১, রোববারঃ  ছ’মাস ধরে চলে আসা গণ-আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে জর্ডানের রাজা আব্দুল্লাহ রোববার তার সিংহাসনারোহণের দ্বাদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে এক টেলিভিশিত ভাষণে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার ঘোষণা করেছেন।

    রাজা আব্দুল্লাহ তার ঘোষণায় বলেন, আগামীতে দেশের মন্ত্রীপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রী আর রাজার দ্বারা নয়, নির্বাচিত পার্লামেন্টের দ্বারা মনোনীত হবে। তবে কবে নাগাদ এ-পরিবর্তন কার্যকর হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়-সূত্র দেননি রাজা।

    ভাষণে আব্দুল্লাহ বলেন, পরিবর্তন-সমূহ কার্যকর করা হবে জাতীয় সংলাপ পরিষদের সুপারিশ অনুসারে।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারীতে গণ-আন্দোলন শুরু হলে রাজা ক্ষিপ্রতার সাথে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত ও মন্ত্রীসভা পুনর্গঠিত করেন এবং রাজনৈতিক মত-বিনিময়ের উদ্দেশ্য একটি জাতীয় সংলাপ পরিষদ গঠন করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রশাসনিক ও আইনী সংস্কারের দিকে পদক্ষেপ নেন।

    বর্তমানে দেশটিতে গণ-সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রকাশের উপর থেকে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে, কিন্তু শুরুতে বিক্ষোভ দমন-চেষ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।

    রোববারের ভাষণে রাজা আব্দুল্লাহ আরও পরিবর্তনের আশ্বাস দেন কিন্তু বলেন, হঠাৎ পরিবর্তন ‘অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা’র দিকে ধাবিত হতে পারে।

    জাতীয় সংলাপ পরিষদ বিস্তৃত সংস্কারের উদ্দেশ্যে নতুন নির্বাচন আইন থেকে শুরু করে দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আমলাতান্ত্রিকতা বিরোধী বিধি-বিধান তৈরী করার কাজ করছে।

    রাজার সমালোচনাকারী জর্ডানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক লাবিব কামাওয়িকে উদ্বৃত করে আল-জাজিরা জানায়, রাজার রোববারের ঘোষণাকে গণ-আন্দোলনকারীদের কাছে একটি রাজনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে, কার্যক্ষেত্রে কী হয়, তা তারা দেখতে চান।

    জর্ডানের গণ-আন্দোলনের মধ্যে যে-সকল রাজনৈতিক মতামতের উপস্থিতি রয়েছে, তার মধ্যে সর্বাধিক বামধারার দাবী হচ্ছে, রাজার হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা সরিয়ে নিয়ে তাকে যুক্তরাজ্যের রানীর মতো একটি আলঙ্কারিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ রাখা। কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুড-সহ প্রধান ধারাগুলো এ-দাবী খারিজ করে দিয়ে রাজতন্ত্রের ‘ইতিবাচক’ ভূমিকার কথা বলছে।

    মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জামিল আবু বকরের বরাত দিয়ে  আল-জাজিরা জানাচ্ছে যে, তারা রাজার একটি ‘স্থিতিস্থাপক প্রভাব’ ব্যবহার করে জর্ডানের ক্ষেত্রে ‘সিরিয়া, ইয়েমেন ও বাহরাইনের মতো দুঃখজনক ঘটনা’ এড়াতে চান।

    উল্লেখ্য, ছোট্ট রাজতান্ত্রিক দেশ জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়লের সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কিত বন্ধু।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন