• জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলুশনের অসারতা প্রমাণ করে সিরতে ন্যাটোর গণহত্যা
    libya_sirte_genocide.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১, বুধবারঃ  আকাশে ন্যাটোর বোমারু-বিমান ও স্থলে আল-কায়েদা বিদ্রোহীদের দ্বারা অবরুদ্ধ লিবিয়ার সিরত শহরের অধিবাসীরা ন্যাটোকে গণহত্যা সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা। ন্যাটোর অব্যাহত বিমান-হামলা সত্ত্বেও প্রায় মাসাধিককাল যাবত সিরত-বাসীরা বিদ্রোহীদের স্থল-আক্রমণ সাথে মোকাবেলা করে আসছে।

    মুয়াম্মার গাদ্দাফীর জন্ম-শহর সিরত সামরিক-পন্থায় দখলে নিতে ব্যর্থ হয়ে জনতাকে দূর্বল করার ভিন্ন পথ নিয়েছে ন্যাটো ও বিদ্রোহী বাহিনী। শহরের পানি, বিদ্যুত ও পেট্রোল-সহ সকল সরবরাহ লাইন কেটে দিয়ে আকাশ থেকে মিসাইল ছুঁড়ে স্থাপনা ধ্বংস করে চলেছে। শহর থেকে কোনক্রমে পালিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে দ্যা অস্ট্রেলিয়ান জানাচ্ছে যে, 'সকল ধরণের ভবনই ন্যাটো বোমা মেরে ধ্বংস করছে - স্কুল, হাসপাতাল, বসতবাড়ি সব।' মোহাম্মাদ আলি আলুম নামের অন্য একজন প্রত্যক্ষদর্শী - যাঁর পরিবারের ৬ সদস্য সিরতের অভ্যন্তরে ন্যাটোর বোমায় নিহত হয়েছেন - জানিয়েছেন যে, 'ন্যাটো নির্বিচারে বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে'। ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, 'সিরতের এ-গণহত্যা বন্ধ করতে কোথায় জাতিসংঘ, কোথায় মুসলিম-বিশ্ব?'

    উল্লেখ্য, লিবিয়ার সরকার উৎখাত করতে সশস্ত্র আল-কায়েদা বিদ্রোহী ও পক্ষ-বদল করা উচ্চাভিলাষী কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তা ফ্রান্স, ব্রিটেইন, ইতালী, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি পশ্চিমা-দেশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ-বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে সরকারের উপর সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করে। পরে ব্রিটেইন ও ফ্রান্সের উদ্যোগে মার্চ মাসে প্রস্তাবিত জাতিসংঘের 'রেজ্যুলুশন ১৯৭৩' এর অনুমতিক্রমে 'বেসামরিক নাগরিক রক্ষার' উদ্দেশ্যে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র তারপর পশ্চিমা-পরাশক্তিগুলোর সামরিক জোট, ন্যাটো, লিবিয়ার অভ্যন্তরে ব্যাপক মাত্রায় বিমান-হামলা শুরু করে। প্রশ্ন উঠছেঃ জাতিসঙ্ঘের 'বেসামরিক মানুষ রক্ষার' এ-রেজ্যুলুশন ব্যবহার করে ন্যাটো যখন বেসামরিক নাগরিকই হত্যা করছে এবং জাতিসঙ্ঘ নীরব-দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, তখন এ-গণহত্যার দায়ভার কে নেবে?

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন