• জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলুশন ভঙ্গ করে ন্যাটোর সৈন্য লিবিয়ার মাটিতে
    nato-flag.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৪ অগাস্ট ২০১১, বুধবারঃ  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফীর বাসভবনে মঙ্গলবারের সামরিক অভিযানে বিদ্রোহীদের সাথে অংশ নিয়েছে ব্রিটেইন, ফ্রান্স, জর্ডান ও কাতারের 'বিশেষ স্থল-সেনা'। ন্যাটোর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ-খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ-সংস্থা সিএনএন।

    আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ-কর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলুশন ১৯৭৩ (২০১১) লঙ্ঘন করেছে। এ-রেজ্যুলুশন লিবিয়ায় 'নো-ফ্লাই-জৌন' প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হলেও, ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পস্ট করে বলা আছে যে, কোনো অবস্থাতেই লিবিয়ার কোনো অংশে বিদেশী স্থল-সেনা পাঠানো যাবে না।

    প্রদত্ত তথ্যের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ন্যাটোর ঐ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন যে, বিদেশী-সেনাদের বেশির ভাগই বিদ্রোহীদের সাথে সাথে ত্রিপোলি অভিমুখে শহরের পর শহর ভ্রমণ করেছেন। বিশেষতঃ বৃটিশ সেনারা বিদ্রোহীদেরকে আক্রমণ পরিচালনায় আরও ভালোভাবে সংগঠিত হতে 'বিশেষ সহায়তা' প্রদান করেছেন।

    কেবল বিদ্রোহীদের যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা নয়, ন্যাটোর বিমান-বাহিনীর কাছে যুদ্ধ-ময়দানের খবর পাঠিয়ে তাদের 'বোমা-বর্ষণের লক্ষ্যস্থল' নির্ধারণেও ভূমিকা রেখেছে বিদেশী সেনাদের এ-'বিশেষ বাহিনী'। এর আগেও ফ্রান্স ও কাতার জাতিসঙ্ঘের ১৯৭০ (২০১১) রেজ্যুলুশন - যার দ্বারা লিবিয়ায় অস্ত্র-নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো - ভঙ্গ করে বিদ্রোহীদেরকে যুদ্ধাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। কিন্তু জাতিসঙ্ঘ এখন পর্যন্ত ফ্রান্স বা কাতারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, কিংবা কোনো প্রকারের নিন্দাও জানায়নি।

    লিবিয়ার সরকারী সূত্রে প্রাপ্ত খবরে গতকালের সংঘর্ষে ব্রিটিশদের জড়িত থাকার কথা জানা গিয়েছিলো কিন্তু কোনো পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যম গতকাল এ-সম্পর্কে কোনো সংবাদ পরিবেশন করেনি। তবে ইসরায়েলের একটি যুদ্ধ-বিশ্লেষক ম্যাগাজিন 'দেবকা' গতকালই তাদের 'নিজস্ব-সূত্র' উল্লেখ করে বিদেশী বিশেষতঃ বৃটিশ সেনাদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছিলো। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী 'বিদেশী সেনাদের অনুগামী বিদ্রোহীরা মোটেই সংগঠিত সেনা-শক্তি ছিলো না'।

    এদিকে লিবিয়ার সরকারী সূত্রে জানা গেছে, গতকালের সংঘর্ষে একাধিক ব্রিটিশ-সেনা নিহত হয়েছে এবং সহ-সেনারা দ্রুততার সাথে তাদের মৃতদেহ সরিয়ে পিছু হটেছে। লিবিয়ার ৩২তম ব্রিগেইডের সাথে সংঘটিত এ-লড়াইয়ের সময় সরকারী সেনারা বিদ্রোহীদের গ্রুপটির নেতাকে আটক করেছে। একই সূত্রে জানা গেছে, ধৃত-বিদ্রোহীকে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন, লিবিয়ার মাটিতে ন্যাটোর স্থল-সেনাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি দেশটিতে ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্যাবর্তনকে প্রত্যাসন্ন করে তুলেছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন