• জাপানের প্রধানমন্ত্রী ভারতেঃ সম্পর্ক উজ্জীবিত রাজনৈতিক-সামরিক-বাণিজ্য ক্ষেত্রে
    india_japans_abe_visits.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৭ জানুয়ারি ২০১৪, সোমবারঃ গতকাল ভারতের ৬৫তম প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিন্‌জো এ্যাবে। সেখানে তিনি ভারতের সাথে আরও জোরদার রাজনৈতিক, সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন, যাতে ভারতও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ভারত-জাপানের এ-উদ্যোগকে এশিয়ার শক্তিগুলোর মধ্যে ঘটমান নীরব মেরুকরণের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    জাপানী প্রধানমন্ত্রীর ৩ দিনের এ-সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে কিংবা হওয়ার পথে আলোচনা এগিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, চীন সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে জাপানী বিনিয়োগ, চেন্নাইয়ে একটি সমুদ্র বন্দর স্থাপন ইত্যাদি। উত্তরপূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে চীন নিজ-ভূমি বলে দাবী করে। তাই অরুণাচলকে 'ডিসপিউটেড' বা বিরোধপূর্ণ স্থান হিসেবে নির্দেশ করে সেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি করে আসছে চীন।

    প্রধানমন্ত্রী এ্যাবে ভারতের অবকাঠামগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ২ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন। সম্প্রতি জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর ভারত সফর-কালে জাপানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ভারতে রপ্তানির ব্যাপারে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। আর, এটি সম্পন্ন হলে তা হবে দশকাধিক কালের মধ্যে জাপানের প্রথম সামরিক প্রযুক্তির রপ্তানি।

    জাপান শেষবার ভারতের উত্তরপূর্বে প্রবেশ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। সামরিক পন্থায় ভারতের স্বাধীনতাকামী বাঙালী নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুর ইণ্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সহযোগিতায় নাগাল্যাণ্ডে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় জাপান।

    নব-জাগরিত ভারত-জাপান সম্পর্ককে সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে চীন। গত বছর চীন নতুন একটি একান্ত অন্তরীক্ষ-নিরাপত্তা এলাকা ঘোষণা করলে জাপান তার বিরোধিতা করে; এতে ভারত জাপানের পক্ষে দাঁড়ায়। জাপানের অর্থ সাহায্যকে তার প্রতিদান বলে চিত্রিত করেছে চীনের কোনো-কোনো সংবাদপত্র।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন