• টিভি দেখে টনক নড়েছেঃ যুদ্ধাপরাধের তদন্ত চেয়ে শ্রীলঙ্কার উপর ব্রিটেইনের চাপ!
    killing_fields.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৫ জুন ২০১১, বুধবারঃ মঙ্গলবার রাতে চ্যানেল ফৌর টেলিভিশনে জন স্নৌ’র উপস্থাপিত ১ ঘন্টা দীর্ঘ দু’খণ্ডের ডকুমেন্টারী ফিল্ম ‘শ্রীলঙ্কাস কিংলিং ফীল্ডস’ প্রচারিত হবার পর যুক্তরাজ্যের ফরেইন অফিস শ্রীলঙ্কার উপর চাপ দিয়েছে ২০০৯ সালে তামিল টাইগার গেরিলাদের দমনের সময় বে-আইনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করার জন্য।

    উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের সীমান্তে ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কাতে সংখ্যাগুরু হিংহলী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তামিলদের দীর্ঘ ২৫ বছরের সশস্ত্র প্রতিরোধ ২০০৯ রাষ্ট্রীয় প্রবল আক্রমণের মুখে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। এ-সময় সিংহলী বাহিনী বিদ্রোহী তামিল সংখ্যালঘুর উপর গণহত্যা, ধর্ষণ-সহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    যদিও শ্রীলংকার সরকারের পক্ষ থেকে এ-অভিযোগ বারবার অস্বীকার করা হচ্ছে, কিন্তু মঙ্গলবার রাতে চ্যানেল ফৌরে জন স্নৌ যে ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করেন, তার মধ্যে কয়েকটি কোনো এক সিংহলী সৈনিকেরই তোলা। প্রদর্শিত ভিডিও ক্লিপে বাঁধা অবস্থায় খুব কাছে থেকে গুলি করে তামিল নারী-পুরুষকে হত্যা করতে দেখা যায়। অনেক স্থিরচিত্র ও ভিডিও ক্লিপে ধর্ষণের পর উলঙ্গ ও মৃত তামিল নারীদের ছবি দেখা যায়।

    ডকুমেন্টারীতে ভাষ্যদানকারী জাতিসংঘ কর্মী, মানবাধিকার কর্মী এবং ব্রিটেইন থেকে যাওয়া চিকিৎসা-কর্মীর বর্ণনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ভিডিও ক্লিপগুলো যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি প্রকটিত করে তোলে। উল্লেখ্য, এ-ডকুমেন্টারীতে তামিল টাইগারদেরও বে-আইনী কোনো-কোনো ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে দেখা যায়।

    চ্যানেল ফৌরের দাবী, ইতিপূর্বে অ-দেখা এ-ভিডিও ক্লিপগুলো আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এ-প্রসঙ্গে ব্রিটিশ ফরেইন অফিসের মিনিস্টার এ্যালিস্টার বার্টকে উদ্বৃত করে বিবিসি জানায়, মঙ্গলবারের ডকুমেন্টারীতে তিনি ‘বিভৎস দৃশ্য দেখে শিহরিত’, যা তার মতে, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন লঙ্ঘনের বিশ্বাযোগ্য প্রমাণ।

    বার্ট জানান, ‘যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে শ্রীলঙ্কার সরকারকে ক্রিয়া করতে বাধ্য করানোর জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করতে তৈরী আছে’।

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় তামিলদের উপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধ চলা-কালে হাজার-হাজার ব্রিটেইনের তামিলেরা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে প্রাণে-পণে দাবী ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেও ব্রিটিশ সরকারকে দিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করাতে সফল হয়নি।

    মঙ্গলবার রাতে ডকুমেন্টারীটিতে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়, যে প্রশ্নটি বিভিন্ন পরিধিতে বিভিন্ন ভাবে আগেও করা হয়েছে, আর তা হলোঃ লিবিয়াতে 'জনগণকে রক্ষা'র যে সংকল্প ও উদ্যোগ ব্রিটেইনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে, তার বিন্দুমাত্র কেনো শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে দেখা গেলো না?

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

আমি কিছু ছবি যোগ করি, শ্রীলঙ্কান সরকারের যুদ্ধাপরাধের কিছু নমুনাঃ

[সতর্কতাঃ হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা থাকলে এই ছবিগুলো দেখা থেকে বিরত থাকুন]

http://www.salem-news.com/articles/august072010/srilanka-violence-mv.php

http://www.salem-news.com/articles/april222011/sri-lanka-genocide-tk.php

http://www.indybay.org/newsitems/2010/09/27/18660047.php

http://www.tamilnational.com/news-flash/976-situation-report-may10.html

http://www.indybay.org/newsitems/2010/09/24/18659756.php

টিভি দেখে টনক নড়েছে? মিছে কথা! ২০০২ - ২০০৭ পর্যন্ত সময়-কালে তামিল টাইগারদের সাথে যুদ্ধ-বিরতি চলাকালে ব্রিটেইন কি শ্রীলঙ্কাকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি? আমেরিকা, ইসরায়েল, রাশিয়া ও চীনও কি দেয়নি অস্ত্র? তারা কি জানতো না কি কাজে লাগবে এই অস্ত্র? তামিল গণহত্যার ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপেই অবগত ছিল ব্রটিশ সরকার। আর অস্ত্র সরবরাহ করে তারা নিজেরাও এতে অংশ নিয়েছে।

২০০৯ এ যখন লাখের ওপর ব্রিটিশ-তামিল ইউকে পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করেছিল, গণহত্যা থামাতে দাবি জানাচ্ছিল, সেদিন কি তাদের ছত্রভঙ্গ করেনি ব্রিটিশ পুলিস? সরকার কি আমলে নিয়েছিল তাদের স্মারকলিপি? নেয়নি।

শ্রীলঙ্কার সরকার ও ব্রিটিশ সরকার উভয়কেই আমি যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত করছি। আশা করছি আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কৌর্টের ওকাম্পাসাহেব এবার এদের বিরুদ্ধে এ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট চাইবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন