• ট্র্যানজিট-অবকাঠামোর উন্নয়নে ভারত থেকে রেইল-ইঞ্জিন কেনার চুক্তি বাংলাদেশের
    india_bd_rail_engine_pact.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩১ জানুয়ারী ২০১২, মঙ্গলবারঃ  রেইল-ইঞ্জিন ক্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেইলওয়ে আজ ভারতের সাথে একটি চুক্তি সাক্ষর করেছে। এ-চুক্তির অধীনে ৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার) বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে ১০টি ডিজেল-চালিত ব্রডগেইজ রেইল-ইঞ্জিন সরবরাহ করবে।

    বাংলাদেশ রেইলওয়ের অতিরিক্ত মহাসচিব খলিলুর রহমান ও আরআইটিইএস-এর নির্বাহী পরিচালক বি কে জৈন স্ব-স্ব পক্ষে চুক্তিতে সাক্ষর করেন। এ-সময় উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি-নিযুক্ত বাংলাদেশের রেইল-মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে যথাসময়ে আকাঙ্খিত ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করেন।

    এ-চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সরকার-নিয়ন্ত্রিত রেইল-বিষয়ক পরামর্শক কৌম্পানী আরআইটিইএস লিমিটেড আগামী ১৩ মাসের মধ্যে ২টি ও তারপরের ৫ মাসে বাকী ৮টি ইঞ্জিন বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ইঞ্জিনগুলো ব্যবহার করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তি রেইল-সেবা প্রদান করা হবে।

    এ-প্রকল্পের অর্থায়ণ করতে মূলতঃ ব্যবহার করা হবে ২০১০ সালের অগাস্টে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে দেয়া ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ। ইতোমধ্যেই ঐ ঋণের অর্থ ব্যবহার করে বাংলাদেশ দ্রুততার সাথে ২০টি অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ১২টি রেইলওয়ে প্রকল্প, ৫টি যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প ও ৩টি বন্দর উনয়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের এ-প্রকল্পগুলো আপাতদৃষ্টে বাংলাদেশের স্বার্থে নেয়া হয়েছে মনে হলেও এর পেছনে ভারতের তাগিদই বেশি। কারণ, বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার যে-ট্রানজিট সুবিধা দেশটি পেয়েছে, তার সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ও সামরিক ব্যবহারের উপযোগী নয় বাংলাদেশের বর্তমান অবকাঠামো। তাই ভারত ঋণ নিয়ে এগিয়ে এসেছে অবকাঠামো উন্নয়ণে, সেই সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভারতই ঠিকাদারী গ্রহণ বা সরাসরি সেবা ও পণ্য বিক্রয় করছে। ঐতিহাসিকভাবে আমলা-নির্ভর বাংলাদেশে এ-ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প অতীতে কখনও এতো দ্রুততার সাথে নেয়া হয়নি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন