• ড্রৌন হামলার জন্য সিআইএ’র প্রাক্তন আইন-উদেষ্টাকে গ্রেফতারের দাবী পাকিস্তানে
    JohnRizzo.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৫ জুলাই ২০১১, শুক্রবারঃ  আমেরিকা থেকে ড্রৌন আক্রমণে, অর্থাৎ মনুষ্যবিহীন এ্যায়ারক্রাফট্‌ প্রযুক্তি দিয়ে পাকিস্তানে বোমা ফেলে, শতো-শতো মানুষকে হত্যা করার পরামর্শ দেবার অভিযোগে, সিআইএ’র প্রাক্তন এ্যাক্টিং জেনারেল কাউন্সেল জন রিজোকে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করার চেষ্টা করছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা।
    ড্রৌন-বিরোধী আন্দোলন-কর্মীরা বলছেন, ২০০৪ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের আমলে থেকে মোট ২৬০টি ড্রৌন আক্রমণে এ-পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
    গত ফেব্রুয়ারীতে নিউজউইকে প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে জন রিজো (৬৩) স্বীকার করেন যে, তিনি ২০০৪ সাল থেকে মাসে এবার করে পাকিস্তানে টার্গেটের উপর ড্রৌন হামলা অনুমোদন করেছিলেন, যদিও পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্টের ঘোষিত কোনো যুদ্ধ নেই।
    রিজো সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, ভার্জিনিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় কম্পিউটারের পর্দায় টার্গেট স্থির করে হাজার-হাজার মাইল দূর থেকে পাকিস্তানে ড্রৌন আক্রমণে লোক হত্যা করার প্রক্রিয়া-কালে তিনি স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন।
    উল্লেখ্য, পাকিস্তানে প্রথম ড্রৌন আক্রমণ করা হয় ২০০৪ সালে প্রেসিডেন্ট বুশের আমলে, যা বারাক ওবামা ক্ষমতাসীন হবার পর ব্যপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। গত বছরে মোট ১১৮টি এবং এ-বছর এপর্যন্ত ৪২টি আক্রমণ করা  হয়েছে। গত সপ্তাহে সর্বশেষ মার্কিন ড্রৌন আক্রমণে চল্লিশেরও অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন পাকিস্তানে।
    পাকিস্তানে ড্রৌন আক্রমণের জন্যে যে-গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন ছিলো, তার প্রামিক যোগানদার ছিলো দেশটির সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাবাহিনী। অর্থাৎ, পাকিস্তান নিজ দেশের ‘সন্ত্রাসী’দের হাজার-হাজার মাইল থেকে অত্যন্ত উন্নত ও নতুন প্রোকৌশল দিয়ে হত্যা করার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে সাহায্য করেছিলো।
    সে-সময় পাক কিংবা মার্কিন বাহিনীর মধ্যে কোনো পক্ষই কোনো মানবাধিকার কর্মীদের বা সাংবাদিকদের আক্রান্ত অঞ্চল ওয়াজারিস্তানে যাবার অনুমতি দেয়নি। ফলে কারা মারা যাচ্ছিলো, কতো মারা যাচ্ছিলো, সে-সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষের বিস্তারিত তথ্য জানার কোনো উপায় ছিলো না।
    সে-সময় পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ওয়াজিরিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার-আন্দোলন দমন করা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিলো তার নতুন অস্ত্রের কার্যকরিতা পরীক্ষা করা। এর দুয়ের ফলে নিহত হয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
    পাকিস্তানে গণতন্ত্রের পক্ষে ও স্বৈরতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে ভূমিকা পালনের ইতিহাস রয়েছে আইনজীবীদের। তাদের বর্তমান এ-আন্দোলনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও কাজ করেছে সহযোগী হিসেবে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্রিটেইন ভিত্তিক সংগঠন রিপ্রাইভ।
    রিপ্রাইভের মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফৌর্ড স্মিথ বলেন, ‘সামরিক অভিযানে বেসামরিক হত্যা বেআইনী নয় - যদি না তা ইচ্ছাকৃত, বে-আনুপাতিক ও বেপরোয়া প্রমাণ করা যায়।’ তবে, তিনি মনে করেন মার্কিন ড্রৌন আক্রমণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং আইনগত তাৎপর্য্যও ভিন্ন। স্মিথ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের আইন অনুসরণ করতে হবে।’
    যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত নয় এবং ড্রৌন আক্রমণ পরিচালিত হচ্ছে বেসমারিক অনুমোদনে ও ব্যবস্থাপনায়, তাই মানবাধিকার আইনজীবীদের পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে।
    স্মিথ বলেন, ‘এখানে বিষয়টি হচ্ছে, এটি যুদ্ধ নয়। পাকিস্তানে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিজোর জন্য এ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট না পাবার সম্ভাবনা শূন্য। প্রশ্ন হচ্ছে পরবর্তীতে কী হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করবে, তবুও (রিজোর) এক্সট্রাডিশনের চেষ্টা করতে হবে।’
    তিনি বলেন, ‘ইন্টারপোলকে একটি এ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে হবে কারণ, অভিযোগের বৈধতা নিয়ে এখানে কোনো প্রশ্ন নেই।’

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন