• ঢাকার শাহবাগ-বিক্ষোভের প্রতি সংহতি লণ্ডনেঃ সাংবাদিক প্রহারিত জামায়াত-সমর্থকদের হাতে
    London_Demo_2.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি – ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, শুক্রবারঃ  বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে পূর্ব-লণ্ডনে আয়োজিত এক সমাবেশে জামায়াত-সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। জামায়াত-সমর্থকগণ বিক্ষোভকারীদেরকে মৌখিক ও শারিরীক, উভয় প্রকারেরই আক্রমণ করে। এ-ঘটনায় আহত অন্ততঃ এক ব্যক্তি এ-মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    পূর্ব-লণ্ডনের বাঙালী-ঘন ওয়াইটচ্যাপেলের আলতাব আলি পার্কে নির্ধাতির সময় বেলা দু’টোর ঠিক আগে-আগে শহীদমিনার প্রাঙ্গণ দখল করে নেন জামায়াত-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা অনন্যোপায় হয়ে পার্কের ভেতরে জামায়াত-সমর্থকদের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে জাতীয় সংগীত গেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু করেন।
    এ-সময় জামায়াত-সমর্থকগণ বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেললে আলতাব আলী পার্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপস্থিত পুলিস দু’পক্ষকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে নিজ-নিজ কর্মসুচি চালানোর অনুরোধ করে। এ-পরিস্থিতিতে জামায়াত-সমর্থকগণ পার্কের তিন পাশে অবস্থান নিয়ে স্লৌগান ও বক্তৃতা দিতে থাকেন।

    বিকাল তিনটার দিকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করলে জামায়েত শিবিরের সমার্থকরা মাইকে গালি-গালাজ করতে শুরু করেন। সেখানে উপস্থিত ইউকেবেঙ্গলি.কমের রিপোর্টার আশফাক চৌধুরী জানিয়েছেন, জামায়াত-কর্মীরা নারী বিক্ষোভকারীদেরকে বারংবার ‘বেশ্যা’ বলে গালি দেয় এবং পুরুষদেরকে লক্ষ্য করে তাঁরা সুরে-সুরে 'চোর-চোর, বিশ্ব-চোর, তোরা সব গাঁজাখোর' বলে স্লৌগান দেন।

    বিকেল গড়ানোর সাথে-সাথে শাহবাগ-সমর্থকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ-পক্ষের কয়েকজন তরুণ এ-সময় মাটিতে বসে গান গাইতে শুরু করেন। অন্যপাশে আরেকদল বিক্ষোভকারী জামাত-শিবিরের নাম ধরে স্লৌগান দিতে শুরু করলে, জামায়াত-সমার্থকরাও পাল্টা স্লৌগান দেয়। এক পর্যায়ে জামায়েত-সমার্থকরা মারমুখো হয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে অগ্রসর হলে পুলিস হস্তক্ষেপ করে উপয় পক্ষকে সীমানা স্থির করে দেয়।  

    বিকেল পাঁচটার দিকে পার্কের পূর্ব-গেইট দিয়ে জামায়াত-শিবিরের সমর্থনে ২০-২৫ জনের একটি মিছিল মাঠে প্রবেশ করলে আবারও উত্তেজনা শুরু হয়। শাহবাগ আন্দলনের সমর্থনে বিক্ষোভকারীরা নবাগতদেরকে লক্ষ্য করে  'তুই রাজাকার, তুই রাজাকার' বলে স্লৌগান দেন; জামায়েত-সমার্থকরাও বিক্ষোভকারীদেরকে 'ভারতের দালাল' বলে স্লৌগান দেয়।

    সন্ধ্যা ৬ টার দিকে জামায়াত-সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর ডিম ও পাথরের টুকরো ছুঁড়ে মারা হয়, ফলে পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ-সময় সমাবেশে অংশ-নেয়া নারী ও শিশুদের ওপরেও ডিম এসে পড়ে। পুলিস জামায়াত-কর্মীদেরকে আরেক দফা নিরস্ত করে।

    সন্ধ্যে আটটার দিকে বিক্ষোভকারীরা পুলিসকে জানান যে, তাঁরা পার্কের শহিদ-বেদীতে গিয়ে বিক্ষোভ সমাপ্ত করতে চান। সে-প্রেক্ষিতে পুলিস জামায়াত-কর্মীদেরকে বেদী-প্রাঙ্গণ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গেয়ে শহীদ মিনারের অভিমুখে রওয়ানা হলে জামায়াত-সমর্থকরা কয়েকটি হ্যাণ্ড মাইক ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে 'আওয়ামী লীগের গুণ্ডারা, হুঁশিয়ার সাবধান' বলে স্লৌগান দিতে থাকেন।

    সমাবেশের সমাপ্তির ঘোষণা করে বিক্ষোভকারীরা পার্ক থেকে বের হওয়ার সময় তাঁরা আবারও জামায়াত-সমর্থকদে্র হামলার মুখোমুখী হন। এবার তাঁদের উপর জামায়াত-সমর্থকরা পেছন থেকে হামলা চালায়। সমাবেশের স্বেচ্ছাসেবকগণ এ-সময় মেয়েদের নিরাপত্তায় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তাঁরা তৌফিক নামের একজন তরুণ বিক্ষোভকারীকে জামায়াতের শারীরিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর খবর পাওয়া যায়, বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাংলা রেডিও ‘বেতার বাংলা’র সাংবাদিক রাজুর উপর তাঁরা হামলা চালিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    বিক্ষোভের আয়োজকদের কাছে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, তাঁরা ‘খুব শীঘ্রই নতুন কর্মসুচির’ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন