• তালিবানদের ‘বসন্ত-হামলা’ আফগানিস্তান জুড়েঃ ১১ বছরের মধ্যে সাংঘাতিকতম
    Taliban-attack.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ এপ্রিল ২০১২, রোববারঃ  আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল-সহ বিভিন্ন প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তালিবান যোদ্ধারা আজ সমন্বিতভাবে হামলা পরিচালনা করে তাদের শক্তির সাক্ষর রাখে। ন্যাটো এ-হামলাকে ‘অকার্যকর’ বললেও সংবাদ-মাধ্যমগুলো বলছে, ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তালিবানেরা যতো হামলা পরিচালনা করেছে, তার মধ্যে আজকেরটি হচ্ছে ‘সংঘাতিকতম’, আর তালিবানেরা নিজেরা বলছে এটি তাদের ‘বসন্ত হামলা’।

    আজ স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৫মিনিটে কাবুলে আক্রমণ শুরু হয় পার্লামেন্টে, ন্যাটোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে ও ব্রিটেইন-সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে। গুলি-ছোঁড়া বন্দুক, নিক্ষেপযোগ্য রকেট ও আত্মঘাতি-বোমা ব্যবহার করে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়।

    আফগান অভ্যন্তরীন মন্ত্রণালয় জানায়, আজকের হামলায় ২ জন সরকারী সেনা ও ১৭ জন তালিবান যোদ্ধা প্রাণ হারায়। এছাড়াও ১৭জন আফগান পুলিস ও দুজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।

    রাজধানী কাবুলে হামলার করার পাশাপাশি লোগার, পাকতিয়া ও নাঙ্গারহার প্রদেশ তিনটির বিভিন্ন স্থানেও আক্রমণ পরিচালনা করে তালিবান যোদ্ধারা। লোগার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন বিমান-ঘাঁটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে বলে জানা যায়।

    ন্যাটো তালিবানদের এই হামলাকে ‘প্রধানতঃ অকার্যকর’ বলে অভিহিত করে জানায়, ন্যাটো বাহিনীর সহায়তা ছাড়াই আফগান সরকারী সেনারা এই হামলা মোকাবেলা করে।

    তালিবানের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়, আজকের ঘটনা তাঁদের বসন্ত-হামলা এবং এর মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে যে আফগানিস্তানে তালিবান যোদ্ধাদের জন্য অগম্য কোনো স্থান নেই।

    কাবুলে ব্রিটিশ, জার্মান, ফরাসী, গ্রীক ও তুর্কী কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা পরিচালিত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। লণ্ডনে আজ ফরেইন সেক্রেট্যারী উইলিয়াম হেইগ তালিবান হামলাকে ‘কঠোরভাবে’ সমালোচনা করেন এবং ‘সাহসিকতা, দ্রুততা ও কার্যকারিতার সাথে’ হামলা মোকাবিলা করার জন্য তিনি আফগানিস্তানের সরকারী সেনাদের প্রশংসা করেন।

    সংবাদ সংস্থা এ্যাসোসিয়েটেইট প্রেস জানায়, আফগানিস্তানের জাতীয় পার্লামেন্ট ভবন আজ তালিবান আক্রমণের শিকার হলে, সেখানে অবস্থানরত পার্লামেন্ট-সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েক জন বন্দুক হাতে প্রতিরোধে নিযুক্ত হন। একজন এমপি পার্লামেন্ট চত্তরের একটি টাওয়ারে আরোহণ করে তাঁর কালাশনিকভ রাইফেল থেকে ৪০০-৫০০ গুলি ছোঁড়েন।

    ওয়াজমা ফ্রোঘ নামের অপর এক এমপিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, তালিবানদের আক্রমণ-কাল তিনি ব্রিটিশ দূতাবাসের সন্নিকটে ছিলেন এবং তিনি আক্রমণের মুখে আফগান পুলিসের অসহায়ত্ব লক্ষ্য করেছেন।

    এমপি ফ্রোঘ বলেন, ‘একটুর জন্য আমি পিছনে গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে যাই, আমি  সন্ত্রাসীদের কথা বলছি না, বলছি আফগান পুলিসের গুলির কথা, যারা দৃশ্যমান সবকিছুর উপর গুলি করছিলো ... তাদের কোনো ধারণাই ছিলো না তারা কোথাও গুলি করছিলো।’

    তিনি বলেন, ‘আমি আগে কখনও পথ যুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু আজ আমি দেখেছি আমাদের পুলিসের দুর্বলতা। এর মধ্য দিয়ে বুঝা গেছে আমাদের পুলিস প্রশিক্ষণ কতো দুর্বল।’

    বিপরীতে তিনি তালিবান যোদ্ধাদের সম্পর্কে বলেন, ‘তারা খুবই সুনিপুন ও সুপ্রশিক্ষিত হয়েছে। তারা চাইলেই প্রধান ভবনগুলো আক্রমণ করতে পারে এবং আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কনো ধারণাই নেই সে-সম্পর্কে।’

    এদিকে, আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনী আইএসএএফ-এর কমাণ্ডার জেনারেল জন এ্যালেন বলেছে, আজকের আক্রমণের জবাবে আফগান সরকারী বাহিনী যেভাবে সাড়া দিয়েছে, তাতে তিনি ‘অত্যন্ত গর্বিত’। তিনি বলেন, ‘আজকের হামলার সাংঘাতিকতাকে কেউই খাটো করে দেখছেন না এবং কী পরিস্থিতিতে আজকের ঘটনাগুলো ঘটলো তা নিরূপণ করতে আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি।’

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন