• তাহরির স্কোয়ার ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট’ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকার শহরে-শহরে
    ows_foley-square.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ অক্টোবর ২০১১, সোমবারঃ গত ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া 'অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট' বা 'ওয়ালস্ট্রীট দখল করো' বিক্ষোভ-আন্দোলনের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, কর্পোরেইট লোভ, উচ্চ-বেকারত্ব ও রাজনৈতিক দুর্নীতি - যার পেছনে রয়েছে নিউ ইয়র্কের ওয়ালস্ট্রীটের ব্যবসায়ী-মহল - তাঁদের বিরুদ্ধে এ-আন্দোলন। তাঁরা মনে করছেন, এ-অহিংস আন্দোলন আমেরিকার সমাজ ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে 'অ-ভাবিত' পরিবর্তন আনবে।

    কানাডার ভ্যাঙ্কুভার-ভিত্তিক ভোক্তাবাদ-বিরোধী ম্যাগাজিন এ্যাডবাস্টার্স গত ১৩ই জুলাই তারিখে একটি ব্লগ-পৌস্টের মাধ্যমে আমেরিকার জনতাকে ডাক দেয় ওয়ালস্ট্রীট দখল করার। তাদের মতে, আমেরিকার বর্তমান রাজনৈতিক-ব্যবস্থা গণতন্ত্র নামে আখ্যায়িত হবার যোগ্যতা হারিয়েছে - আর তার জন্য দায়ী আমেরিকার কর্পোরেইটতন্ত্র। তাই তাঁরা বেছে নিয়েছেন কর্পোরেইট কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বলে পরিচিত ম্যানহাটানের ওয়ালস্ট্রীটকে। ওয়ালস্ট্রীটের লাগোয়া যুকোটি পার্কে বিক্ষোভকারীরা তাঁবু টানিয়ে দিন-রাত অবস্থান করতে শুরু করেন।

    মিশরের তাহরির স্কোয়ার বা স্বাধীনতা চত্বর ও স্পেইনের সূর্যতোরণ চত্বরে তরুণদের অংশগ্রহণে সাম্প্রতিক কালে সংঘটিত নেতাবিহীন গণ-আন্দোলনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু হওয়া এ-আন্দোলনের প্রথম দিনে মাত্র ১,০০০ ব্যাক্তি ওয়ালস্ট্রীটে মিছিল করেন। কিন্তু দিন যতো গড়াতে থাকে মানুষের অংশগ্রহণ ততোই বাড়তে থাকে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা এ-আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র-ব্যাপী। নিউ ইয়র্কের মতো শিকাগো, লস এঞ্জেলেস, বোস্টন, সেইন্ট লুইস, কানসাস সিটি, সিয়াটল, ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া, মায়ামি, অরিগন-সহ আরও অনেকগুলো শহরে চলছে এ-বিক্ষোভ। ওয়ালস্ট্রীটের বিক্ষোভকারীরা মিশরের তাহরির স্কোয়ারের তরুণদের সাহস, সংযম আর ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যুকোটি পার্কের নাম-পরিবর্তন করে লিবার্টি প্লাজা রেখেছেন।

    আন্দোলনকারীরা যোগাযোগ রক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছেন ফেইসবুক, ট্যুইটার ও গুগোলডক্‌সের মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো। এছাড়াও এ-আন্দোলনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অন্ততঃ এক-ডজন সংহতি ওয়েবসাইট। বিক্ষোভের ভিডিও সরাসরি সম্প্রচারের জন্য কাজ করছে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল - যাঁরা ভিডিও স্ট্রীমিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে  প্রায়-বিরতিহীনভাবে সরাসরি প্রদর্শন করে চলেছে ওয়ালস্ট্রীটে বিক্ষোভের ঘটনাবলি।

    চলমান এ-আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে বড়ো-বড়ো প্রায় সব ট্রেইড-ইউনিয়ন। শিক্ষকদের ইউনিয়ন আমেরিকান ফেডারেশন অফ টিচার্স (এএফটি), কম্যুনিকেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিডব্লিউইউ), ট্রানজিট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ), ইউনাইটেড স্টীল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (ইউএসডব্লিউ), ন্যাশনাল নার্সেস ইউনিয়ন (এনএনইউ), সার্ভিস এমপ্লয়ীস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ) সহ আরও অনেকগুলো ইউনিয়নের হাজার-হাজার কর্মী এ-বিক্ষোভের সাথে সংহতি জানিয়ে যোগ দিয়েছেন।

    এদিকে পুলিস কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছে। বিক্ষোভকারীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে তারা লাঠি-পেটা করছে ও চোখে-মুখে পিপার-স্প্রে ছিটিয়ে দিচ্ছে। উল্লেখ্যঃ পিপার-স্প্রে হচ্ছে বহনযোগ্য এক-ধরণের রাসায়নিক-অস্ত্র যা অনেকটা টিয়ার গ্যাসের মতো কাজ করে। ১লা অক্টোবর ব্রুকলিক ব্রীজের কাছে মিছিল থেকে অন্তত ৭০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিস।

     

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার জন্য এক বন্ধুকে ফৌন করেছিলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী আমেরিকার ৭৮ টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন