• তুরষ্কে সরকার-উৎখাত ষড়যন্ত্রে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
    turkey_ex_army_chief_gets_life_in_prison.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ অগাস্ট ২০১৩, সোমবারঃ  তুরষ্কের বর্তমান ইসলামবাদ-উদ্ভূত জাস্টিস এ্যাণ্ড ডিভালপমেণ্ট পার্টির 'সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র' মামলার রায়ে আজ প্রাক্তন একজন সেনাপ্রধানকে যাবজ্জীবন কারাভোগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়াও প্রাক্তন সেনা-কর্মকর্তা, বামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী নেতা-সহ আরও ১৮ অভিযুক্তের একই সাজা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের দেশটিতে এ-রায় দৃশ্যতঃ বিভেদের সৃষ্টি করেছে।

    ২০০৭ সালে ইস্তাম্বুলের একটি বাড়িতে ২৭টি গ্রেনেইড পাওয়া যাওয়ার সূত্র ধরে শুরু হওয়া তদন্ত সরকার-উৎখাত ষড়যন্ত্রের মামলায় রূপ নেয়। 'এর্গেনেকন' নামের একটি কথিত 'ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী সন্ত্রাসী' সংগঠনকে আসামী করে গঠিত মামলার আর্জিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী-সহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্তাকে হত্যার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে প্ররোচিত করে ক্যূদেতায় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিলো সংগঠনটি। 

    মামলাটি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলার পর আজ একটি আদালত প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মেহমেত ইল্‌কের বাশবুগকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়। ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বাম রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির ৪জন নেতাকেও শাস্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী-সহ প্রায় ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে রায় দেয় আদালত - এর মধ্যে ২১ জন খালাস পেয়েছেন। দণ্ডিত সকল আসামী অপরাধ অস্বীকার করেছেন।

    সরকারের বিরোধী রিপাবলিকান পিপল্‌স পার্টি এ-মামলা ও রায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দলটির একজন মুখপাত্র আকিফ হামজাসেবি বলেছেন, "পাঁচ বছর আগে নির্ধারিত একটি রায় প্রকাশ হলো আজ"। কয়েক হাজার নাগরিক আদালত প্রাঙ্গণে যেতে চাইলে রায়ট পুলিস কাদানে গ্যাস ও জল-কামান ব্যবহার করে তাদেরকে প্রতিহত করে।

    ২০০২ সালে তায়েপ এর্দোগানের দল ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০০৭ ও ২০১১ সালে নির্বাচনেও জয়োলাভের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি তুরষ্কের সর্ববৃহত দলে রূপান্তরিত হয়। এ-আমলে অর্থনৈতিকভাবে দেশটি আগের চেয়ে অনেক অগ্রসর হয়েছে। তবে এর্দোগানের সরকারের বিরুদ্ধে তুরষ্কের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ধর্মনিরপেক্ষ নীতিগুলোতে পরিবর্তন আনার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

    প্রায় ৯০ বছর ধরে মুসলিম-প্রধান দেশে-দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বা ইহজাগতিকতার উদাহরণ বলে গণ্য হয়ে আসছে তুরষ্ক। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেনাবাহিনীই এ-নীতির রক্ষকের ভূমিকা পালন করে আসছে। সে-দেশে ধর্মনিরপেক্ষতায় ভিত্তিষ্ঠিত নীতির প্রতিস্থাপনে ইসলামবাদী নীতির আনয়ন বিরূপ প্রভাব ফেলছিলো প্রধানত শহুরে ও শিক্ষিত সমাজে। আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে তা দেশটিতে আরও গভীর বিভেদের সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন