• তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন নিয়ে ভারতের লোকসভায় হল্লাঃ পেপ্‌র স্প্রে ব্যবহার সাংসদের
    india_loksavha_pepper_sprayed.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, বৃহস্পতিবারঃ অন্ধ্র প্রদেশকে দু'ভাগ করে একাংশকে তেলেঙ্গানা রাজ্যে রূপ দেয়ার বিল পেশ করার সময় ভারতের লোকসভায় সাংসদদের মধ্যে তুমুল বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। হইচইয়ের মধ্যেই একজন সাংসদ পেপ্‌র স্প্রে নামে পরচিত পুলিসের ব্যবহৃত এক ধরণের গ্যাস ছড়িয়ে দিয়ে অসুস্থ করেছেন কয়েকজন সাংসদকে। সংবাদ জানিয়েছে বিবিসি।

    অন্ধ্র ভাগের প্রস্তাবের পক্ষ ও বিপক্ষের সাংসদরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন নিজ-নিজ মতের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে, তবে যা ঘটে গেলো তা কেউই আশঙ্কা করেননি। যদিও ভারতের সংসদে হৈ-চৈ, চেচামেচি এমনকি হাতাহাতিও বিরল নয়, তবে পেপ্‌র স্প্রের মতো রাসায়নিক পদার্থের অপব্যবহার এই প্রথম।

    এ-কাণ্ডটি যিনি করেছেন তিনি ক্ষমতাসীন কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত একজন সাংসদ - নাম এল. রাজাগোপাল। অবশ্য তিনি পরে দাবি করেছেন, 'আত্মরক্ষার্থে' তিনি পেপ্‌র স্প্রে ব্যবহার করেছেন। অন্ধ্র-বিরোধী অন্য আরেকজন সাংসদ - বেণুগোপাল রেড্ডি - গণ্ডগোল চলাকালে সংসদের অভ্যন্তরেই 'চকচকে ছুরি' বের করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ক্ষমতাসীন কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপি-সহ প্রায় সব দলই স্বীকার করেছে এমন ঘটনা ভারতের জন্য লজ্জাজনক। তবে উভয় পক্ষই হিংসা-প্রবণতার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছে। দৃশ্যতঃ বিরোধীদেরকে দোষী চিহ্নিত করে হামলাকারীদের কৃতকর্মের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন সংসদের স্পীকার মীরা কুমার। তিনি আরও বলেন, "এ-ঘটনা লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে"।

    অন্যদিকে বিজেপির নেত্রী সুষমা স্বরাজ সরকারের নিন্দা করে বলেছেন, "আজ যা হলো তা সব সীমা পার করে দিয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এখন মনে হচ্ছে এটা কংগ্রেসের পরিকল্পনারই অংশ, যাতে সভা খালি করে তারা কোনও মতে বিল পেশের সাজানো নাটক করতে পারে।" ছুরি-প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাংসদ রেড্ডি বলেছেন, "আজ সরকার যেভাবে সংসদ পরিচালনা করলো - তা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন"।

    ঐতিহাসিকভাবে একদা হায়দ্রাবাদ রাজ্যের অন্তর্গত তেলেঙ্গানা অঞ্চল বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশের অংশ। তবে স্থানীয় নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন এটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র্য রাজ্য হওয়াই বাঞ্ছনীয়। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত বছর ৩০ জুলাই ক্ষমতাসীন কংগ্রেস তেলেঙ্গানাকে আলাদা রাজ্যে রূপ দেয়ার প্রস্তাব করলে, ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করে। ৫ ডিসেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া বিল পাশ হয় সংসদে, এবার তা চূড়ান্ত করার পালা। আর এমন অবস্থায় তেলেঙ্গানা-বিরোধী সাংসদরা বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে তা ঠেকাতে চেষ্টা করলো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন