• তেল আমদানি নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইইউতে আগেই রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে ইরান
    Iran-Oil-supply.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ জানুয়ারী ২০১২, শনিবারঃ  আন্তর্জাতিক আর্থিক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান মেডলী গ্লৌবাল এ্যাডভাইসার্স-এর প্রেসিডেন্ট ও চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সাসান ঘাহ্রামানির বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ-মাধ্যম আরটি খবর প্রকাশ করে বলেছে যে, ইরানের তেল আমদানির উপর ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার জবাবে আগামী সপ্তাহেই ইউরোপে তেল রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে ইরান।

    ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটি থেকে তেল আমদানির উপর ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সম্মিল্লিত নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটি যে আর্থিক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে এবং হতে যাচ্ছে, তাকে অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে ঘাহ্রামানি বলেন, অগ্রগামী কৌশল হিসেবে ক্ষতি স্বীকার করে হলেও আগেই আমদানি বন্ধ করে দিতে পারে।

    ঘাহ্রামানি আরও বলেন, ইরান যদিও চীন ও ভারতের সাথে একটা ব্যবস্থা করতে সফল হয়েছে, কিন্তু দেশটির অর্থনীতিতে নিষেধাজ্ঞার ঘটনা যথেষ্ট ভীতির সঞ্চার করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ইরানের শাসক কূলের উপর যথাসম্ভব চাপ তৈরী করে চায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি খোলামেলা ভাবে মনে করি, এখানে যে অলিখিত লক্ষ্যটি ভিন্ন নামে রয়েছে, তা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত রেজিম চেইঞ্জ’, অর্থাৎ ইরানের রাষ্ট্র-ক্ষমতায় পরিবর্তন।

    উল্লেখ্য, ইরান দাবী করছে যে, তেল আমদানিতে ইইউ-আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির কোনো ক্ষতি হবে না বরং ইইউ’র দেশগুলোর অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    ঘাহ্রামানির পূর্বোক্তি ঠিক হলে, নিষেধাজ্ঞার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং তার সাথে সম্পর্কিত সঙ্কট-সমূহের আবির্ভাব দ্রুতই ঘটতে থাকবে, ধারণা করা যায়।

    এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদেনিজাদ বলেছেন, তার দেশ পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা পুনঃআলোচনার জন্যে তৈরী, তবে তাতে কোনো পূর্বশর্ত থাকতে পারবে না।

    উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলো মনে করে ইরান তার পারমাণবিক প্রকল্পের মাধ্যে অস্ত্র তৈরীর জন্য সচেষ্ট, কিন্তু দেশটির দাবী যে তারা শক্তি উৎপাদান অন্যান্য বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ প্রকল্প পরিচালানা করছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মনে করে ইরানকে কোনোক্রমেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেয়া যাবে না এবং প্রয়োজন পড়লে শক্তি প্রয়োগ করে এ-প্রচেষ্টা বন্ধ করা হবে। ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের কমপিউটার পদ্ধতিতে সঙ্কট তৈরী করা থেকে শুরু করে কর্মরত বিজ্ঞানীদের গুপ্তঘাতকের মাধ্যমে খুন করার ঘটনাও ঘটেছে এবং ইরান এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়লকে দায়ী মনে করে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন