• তেহরানে ক্ষুব্ধ ছাত্রদের ব্রিটিশ দূতাবাস দখলঃ ব্রিটেইন-ইরান পারস্পরিক দূত-বহিষ্কার
    iran_british_embassy-seized_by_students.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১ ডিসেম্বর ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  গত মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ছাত্রদের আয়োজিত ব্রিটিশ দূতাবাসের সামনে 'বিক্ষোভ প্রদর্শন' অনুষ্ঠানের সময় অনেকে দূতাবাসের ভিতরে ঢুকে পড়ে। ইরানের উপরে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ধরনের অবরোধ আরোপে ব্রিটেইনের অগ্রণী ভূমিকা নেয়ার প্রতিবাদে দেশটির সংসদে ব্রিটেনের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক অবনয়নের সিদ্ধান্ত হওয়ার ঠিক পর-পরই ঘটনাটি ঘটলো।

    ক্ষুব্ধ ছাত্ররা দূতাবাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে নিয়ে সেখানে ইরানের পতাকা স্থাপন করে। ব্রিটিশ রানীর ছবি ছিঁড়ে ফেলে এবং ব্রিটেইন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়ায়। ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কুটনৈতিক কর্মকর্তারা ইরান ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

    প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্রিটেইন গতকাল বুধবার ইরানের সকল কুটনৈতিক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে। পার্লামেন্টে দেয়া এক বিবৃতিতে ফরেইন সেক্রেট্যারী উইলিয়াম হেইগ জানিয়েছে, তিনি ইরানের কর্মকর্তাদেরকে '৪৮ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে' বলেছেন। হেইগ বলেন, 'ইরান ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কুটনৈতিক কার্য্যালয় ও সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে'। লন্ডনে অবস্থিত ইরানের কুটনৈতিক কার্যালয়-যে অতীতে একাধিকবার আক্রমণের শিকার হয়েছিলো, সেগুলোতে ভিয়েনা কনভেনশনের ব্যতয় ঘটেছিলো কি-না, সে-সম্পর্কে অবশ্য কিছু উল্লেখ করেননি হেইগ।

    উল্লেখ্য, ১৯৮০, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে লন্ডনের ইরান দূতাবাস আক্রান্ত হয়েছিলো। ৮০ সালের এপ্রিলে ছ'জন বন্দুকধারী দূতাবাসটির ভিতরে প্রবেশ করে ২৬ জনকে বন্দী করে রাখে প্রায় সপ্তাহ-কাল যাবত। ব্রিটিশ স্পেইশ্যাল এ্যায়ার সার্ভিসের অভিযানে একজন ইরানী কুটনৈতিক কর্মকর্তা-সহ দু-ব্যাক্তির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সে-ঘটনা।

    দৃশ্যতঃ পারস্পরিক দূত-বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে দেশ-দুটির পতনশীল সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। বিশেষতঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ-ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতিভাত হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন