• ত্রিজাতি পাইপলাইন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিতঃ বাংলাদেশের উপর দিয়ে মায়ানমারের গ্যাস নিতে চায় ভারত
    india_bangladesh_mayanmar_pipeline.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ জুন ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ  বাতিল হয়ে যাওয়া প্রস্তাবিত মায়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত ত্রিজাতি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি আবারও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ এ-প্রকল্পে 'নীতিগতভাবে সম্মতি' দিলেও পরবর্তীতে পিছিয়ে আসে। ভারতে বিক্রির জন্য ঠিক করে রাখা গ্যাস তখন চীনকে দেয় মায়ানমার, যা নিতে আরাকান থেকে ইউনান পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপলাইন বসানো হয়। সে-অবস্থায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।

    মায়ানমারের একাধিক গ্যাসক্ষেত্রের ইজারা নিয়েছে কয়েকটি ভারতীয় জ্বালানী কোম্পানি। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার চায়, প্রাপ্য গ্যাস আমনাদী করতে। এ-লক্ষ্যে মায়ানমারের আরাকান থেকে ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য হয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিম বাংলা পর্যন্ত একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করতে চায় তারা। ১৯৯৭ সালে মোহনা হৌল্ডংস নামের বাংলাদেশের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম এ-ধরণের একটি ত্রিদেশীয় প্রকল্পের কথা বলতে শুরু করে।

    ২০০৪ সালের শেষাশেষি ভারতের মিডিয়ায় ত্রিজাতি পাইপলাইন নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়, যাতে বলা হয় বাংলাদেশ এ-প্রকল্পে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। ভারতের তৎকালীন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মনি শঙ্করও সে-মর্মে ইঙ্গিত দেন। পরের বছর প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ ও মায়ানমার ভ্রমণও করেন।

    ২০০৫ সালে তিন পক্ষের মধ্যেই প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সমঝোতা হয়। নির্ধারিত হয়, প্রাক্কলিত ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রায় পুরটাই ভারত বহন করবে আর ট্র্যানজিট ফী হিসেবে বছরে ১২৫ মিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ। পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে গ্যাস মূলত ভারতেই পাঠাবে মায়ানমার, তবে নিজস্ব গ্যাস ফুরিয়ে গেলে বাংলদেশও স্বল্প তা মাত্রায় আমদানি করতে পারবে।

    কিন্তু ২০০৫ সালেই বাংলাদেশ কিছু বাড়তি শর্ত আরোপ করে, যা মানতে ভারত অসম্মতি জানায়, ফলে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। তখন বাংলাদেশকে এড়িয়ে ভারতের উত্তরে-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যদিয়ে পশ্চিম বাংলা পর্যন্ত পাইপলাইন বসানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করে ভারত। কিন্তু অর্থনৈতিক বিচারে তা লাভজনক না হওয়ায় এবং ব্যাপক নিরাপত্তাঝুঁকি থাকার কারণে তা-ও সম্ভব হয়নি।

    ২০০৭ সালে বাংলাদেশে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও ফের এ-ব্যাপারে আলোচনা চালু হয়। তবে তখনও নানা কারণে তা আর এগোয়নি। দু'বছরে অপেক্ষা করার পর হতাশ মায়ানমারের গ্যাস কিনে নিয়ে আরাকন-ইউনান পাইপলাইন বসায় চীন।

    বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এ-সম্পর্কিত আলোচনা, চুক্তি ইত্যাদির বিষয়ে সাধারণত মুখ খোলে না। তাদের প্রকৃত অবস্থা বা মতামত জানা কঠিন। গত বছর জার্নাল অফ এনার্জি সিকিউরিটিতে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ২০১০ সালে বাংলাদেশের সরকার ত্রিদেশীয় পাইপলাইন প্রকল্পে পুনরায় সম্মতি দিয়েছে। এ-ক্ষেত্রে সেখানে ভারতের কংগ্রেস পার্টি ও বাংলাদেশের 'ভারত-বান্ধব' আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ভূমিকার কথা কথা উল্লেখ করা হয়।

    সম্প্রতি মায়ানমারে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মার পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আবারও মিডিয়াতে আসতে শুরু করেছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন