• ত্রিপোলিতে ন্যাটোর নজিরবিহীন বোমাবর্ষণঃ 'বিজয় কাছাকাছি' দাবী বিদ্রোহীদের
    libya-map.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২১ অগাস্ট ২০১১, রোববারঃ  কোনো ধরণের বিরতি ছাড়াই ন্যাটো  গত দু-দিন যাবত লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ভয়াবহ মাত্রায় বোমা-বর্ষণ করছে। একাধিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গত ১২ ঘন্টায় অন্তত ১,৩০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫,০০০ এরও বেশি। নগরীর হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে আহত নারী, শিশু ও পুরুষে।

    বিদ্রোহীরা দাবী করেছে ,শীঘ্রই তাঁরা ত্রিপোলি দখল করে নিতে সক্ষম হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যাটোর এ-আকাশ-হামলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদ্রোহীদের জন্য ত্রিপোলিতে প্রবেশ সহজ করে দেয়া, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

    এদিকে ত্রিপোলিতে হামলার প্রাক্কালে পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতে দৃশ্যতঃ ব্যাপক আকারের বিভ্রান্তিমূলক গুজব-প্রচারণা শুরু হয়েছে। গতকাল ন্যাটোর মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসারে, তাঁরা 'সম্মুখে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, পশ্চাতে হামলা অব্যাহত রাখা এবং এই দু'য়ের মাঝে অগ্রসর হওয়া'র নীতি গ্রহণ করেছে। দৃশ্যতঃ পশ্চিমা মিডিয়ার সাম্প্রতিক তৎপরতা ন্যাটোর এ যুদ্ধ-কৌশলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

    প্রথম দফায় ৯০ দিন যুদ্ধের মেয়াদ শেষ হবার পর ন্যটোর সদস্যরা আরও ৯০ দিনের জন্য যুদ্ধ অনুমোদন করেছিলো, যা আগামী মাসের মাঝামাঝি শেষ হয়ে যাবে। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে ন্যাটোর সদস্যদেরকে আগামী মাসে নতুন করে ভৌটের মাধ্যমে তা করতে হবে। নিজ-নিজ দেশে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ইতালি ও ফ্রান্স ইতোমধ্যেই তাদের যুদ্ধ-বিমানবাহী নৌযান প্রত্যাহার করে নিয়েছে। নরওয়ে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে গুটিয়ে নিয়েছে এ-যুদ্ধ থেকে। ভৌটাভুটিতে ন্যাটোর পক্ষে নতুন করে যুদ্ধের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব না-ও হতে পারে।

    তাছাড়াও জাতিসংঘও আগামী মাসে লিবিয়ার বিমান-হামলার ব্যাপারে আলোচনায় বসবে। বিশ্বব্যাপী লিবিয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনমতের বিপক্ষে এ-হামলা পূনর্বিবেচনা না করে জাতসংঘের পক্ষে সহজ হবে না।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লিবিয়া-হামলার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবার আগেই ন্যাটো একটি ফলাফলে পৌঁছুতে চায়। ফলে বেসামরিক জনগণের প্রাণের ব্যাপারে তোয়াক্কা না করেই যে-কোন উপায়ে বিদ্রোহীদেরকে দিয়ে ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করছে পরাশক্তিগুলোর এ-সামরিক জোট।

    বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বলে আল-জাজিরা সহ পশ্চিমা সংবাদ সংস্থাগুলো জানাচ্ছে। মুয়াম্মার গাদ্দাফীর পুত্র সাইফ আল ইসলাম  মোহাম্মদ গাদ্দাফীকে আটক করেছে বলে দাবী করছে। 

    মোয়াম্মার গাদ্দাফী স্বয়ং কয়েক হাজার সরকারী সেনা-সহ ত্রিপোলির কোথাও অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।  বিদ্রোহীদের ত্রিপোলি প্রবেশের পর তিনি বেতার যোগে জনগণের প্রতি বিদেশীদের হাতে লিবিয়ার উপনিবেশীকরণ রুখতে রাস্তায় নামার আহবান করেন।

    এদিকে, ব্রিটেইন গাদ্দাফীকে লিবিয়া ত্যাগের জন্য 'অনুরোধ' জানিয়েছে। এ-পর্যন্ত কোনো সংবাদ-সংস্থাই গাদ্দাফীর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে সক্ষম হয়নি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন