• ত্রিপোলিতে ন্যাটো ও বিদ্রোহীদের গণহত্যাঃ বর্ণবাদের শিকার কালো লিবিয়রা
    libya_tripoli_black_massacre.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৬ অগাস্ট ২০১১, শুক্রবারঃ  'ত্রিপোলি দখল সম্পন্ন' ন্যাটোর এমন দাবী প্রচারের পর প্রায় এক-সপ্তাহ পার হওয়ার পরও ত্রিপোলিতে সরকারী ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে এখনও চলছে তীব্র লড়াই। নগরীর আবু-সালিম এলাকায়, যেখানে মুয়াম্মার গাদ্দাফীর কট্টর সমর্থকদের বসবাস, সেখানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আকাশ-পথে নির্বিচারের মিসাইল হামলা চালিয়েছে ন্যাটো আর স্থল-পথে বিদ্রোহী ও ন্যাটো-সেনারা হত্যা করেছে বেসামরিক নাগরিকদের। নিহতদের মোট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

    আবু-সালিমে গাদ্দাফী অবস্থান করছেন, এমন সন্দেহে সেখানে মিসাইল-নিক্ষেপ করতে শুরু করে ন্যাটো। এ-হামলায় বেসামরিক গৃহস্থালী, বিদ্যালয়, বিপণী-কেন্দ্র, ক্লিনিক, ফায়ার-ব্রিগেইড ইত্যাদি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এবং হতাহত হয়েছে বহু বেসামরিক নাগরিক। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি একটি বিধ্বস্ত ফায়ার ব্রিগেইড পরিদর্শন করতে গিয়ে সেখানকার দু'জন কর্মীকে বোমার আঘাতে নিহত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, আশে-পাশের ভবনগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

    বোমাবর্ষণের বিরতিতে প্রায় এক হাজার বিদ্রোহী তল্লাশি-অভিযান চালায় আবু-সালিমের বাড়ী-বাড়ী। সেখানে প্রথমে তারা পাল্টা-আক্রমণের মুখে পরলেও সরকার-সমর্থকরা পরে ন্যাটো ও বিদ্রোহীদের যৌথ হামলার মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। বিদ্রোহীরা এলাকাটি থেকে কয়েকশো ব্যাক্তিকে আটক করে যাদের বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। আটককৃতরা নিজেদেরকে বেসামরিক বলে জানালেও বিদ্রোহীরা তাদেরকে 'আফ্রিকান ভাড়াটে সেনা' বলে দাবী করে। আটক অবস্থাতে অনেককে বিনা-বিচারে হত্যা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংবাদ-মতে, এ-সময় বহু ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।

    গাদ্দাফীর সরকারী বাসভবন ও কার্যালয় বাব আজিজিয়ার কাছাকাছি একদল গাদ্দাফী-সমর্থক তাঁবু খাটিয়ে সরকারের সাথে একাত্মতা জানাচ্ছিলো বলে তাঁদের প্রায় সকলকে হাত-বাঁধা অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি। নিরস্ত্র অবস্থায় বিনা-বিচারে হত্যার শিকার হওয়া এ-নাগরিকদের সংখ্যা অন্তত ৪০।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয়-হত্যাযজ্ঞই যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এ-ব্যাপারে বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখনোর সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ বলে তারা মনে করছেন। প্রসঙ্গতঃ আন্তর্জাতিক এ-সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বিদ্রোহীদের পক্ষে 'প্রপাগান্ডা-যুদ্ধে' লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রসঙ্গতঃ বেনগাজী-ভিত্তিক বিদ্রোহীরা মূলতঃ ধর্মবাদী আরব-বংশোদ্ভূত এবং সাধারণভাবে তারা আফ্রিকা-উদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ লিবিয়-নাগরিকদের দাস-জ্ঞান করে তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারীতে প্রথম যখন বেনগাজীতে বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন কয়েকশ কালো-লিবিয় নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে বিদ্রোহীরা। তাদের আক্রমণ থেকে প্রাণ-বাঁচাতে কালো বর্ণের বহু নাগরিক ত্রিপোলিতে পালিয়ে আসেন।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন