• ত্রিপোলির বিদ্রোহী-নেতৃত্ব আল-কায়েদার হাতেঃ সমগ্র লিবিয়ায় পূর্ণ-কর্তৃত্বের পরিকল্পনা
    Libyan-Al-Qaeda.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ সেপ্টেম্বর ২০০১১, সোমবারঃ  লিবিয়ায় ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহীদের মূল সামরিক অংশটির ইসলামী জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এর ফলে গাদ্দাফীর প্রারম্ভিক দাবী সত্য প্রমাণিত এবং ইঙ্গ-ফরাসী-মার্কিন-সহ পশ্চিমা বিশ্ব নৈতিক অবস্থান সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠেছে।

    প্রেসিডেন্ট ওবামার সন্ত্রাস বিষয়ক উপদেষ্টা জন ব্রেন্যান ওয়াশিংটন থেকে সতর্ক এক মন্তব্যে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী-যোদ্ধারা আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কিত লিবিয়ান ইসলামিক ফাইটিং গ্রুপ (এলআইএফজি) থেকে এসেছে, যারা 'অতীতে সুদান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে লড়াই করেছে'। তবে আল-কায়েদার যোদ্ধাদের ব্যাপারে তিনি দাবী করেন যে, 'তাঁদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ থেকে মনে হচ্ছে তাঁরা আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেছে'।

    উল্লেখ্য, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফী বিদ্রোহ শুরুর প্রথম থেকেই বলে আসছেন, যে এ-অরাজক পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে আল-কায়েদা -  যা পশ্চিমা নেতারা বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন।

    দৃশ্যতঃ লিবিয়ার - বিশেষতঃ ত্রিপোলির - সার্বিক পরিস্থিতি ব্রেন্যানের দাবী নাকচ করে দেয়। সর্বশেষ সংবাদ-মতে, মুয়াম্মার গাদ্দাফীর বাসভবন বাব আল-আজিজিয়ায় বিদ্রোহীদের অভিযানে ন্যাটোর বাইরের যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছে আল-কায়েদার নেতা আবদ আল-হাকিম বেলহাজ। 

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে লিবিয়াতে স্থানান্তরিত হবার আগে বেলহাজ ২০০৩ সালে মালয়েসিয়া থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ২০০৩ সালে গ্রেফতারিত হন। তিনি ইসলামী জিহাদী জগতে আবু আব্দুল্লাহ আল-সাদিক নামেও পরিচিত। সরকারী বাহিনী পিছু হটার পর-পরই বেলহাজ নিজেকে ত্রিপোলির মিলিট্যারী কাউন্সিলের 'কমান্ডার' বলে ঘোষণা দেন।

    কেবল ত্রিপোলিতেই নয়, সমগ্র লিবিয়াতেই কর্তৃত্ব দখল করতে চায় ইসলামী-জঙ্গীরা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন টাইমস জানাচ্ছে, জিহাদীরা লিবিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে 'কৌশল ঠিক করছে'। টাইমসের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন অরাজক পরিস্থিতির উন্নতি হলেই, লড়াই ঘুরে যাবে অ-জিহাদীদের বিরুদ্ধে।

    উল্লেখ্যঃ পশ্চিমা দেশসমূহের সামরিক-জোট ন্যাটোর আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সহায়তায় আল-কায়েদা যোদ্ধা-সমেত বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রবেশের প্রায় দু’সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত তারা নগরীর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রম গ্রহণে সক্ষম হয়নি।

    এদিকে আরেক জিহাদী-কমান্ডার ইসমাইল আল-সালাবি বিদ্রোহীদের জোট ন্যাশনাল ট্র্যানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি)'র সকল সদস্যের পদত্যাগ দাবী করেছে। সালাবির বক্তব্য-মতে, এনটিসি'র আর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের ভিতরে পূর্বেকার - অর্থাৎ গাদ্দাফীর সরকারের - লোকজন রয়ে গেছে।

    বিদেশে লিবিয়ার হিমায়িত অর্থের ব্যাপারে কাউন্সিলের সমালোচনা করে সালাবি আরও বলেন, 'এরা সাম্প্রতিক সময়ে হিমায়িত অর্থ মুক্ত করা ছাড়া আর কোনও ব্যাপারে আলাপ করছে না'। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে তালেবানের পক্ষ হয়ে সালাবি যুদ্ধ করেছেন এবং লিবিয়ার যুদ্ধে তাঁকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে কাতারের সরকার। সালাবির অধীনে লিবিয়ায় অন্তত ৩,০০০ সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে বলে জানা যায়।

    বিশ্ব-জুড়ে ‘সন্ত্রাস’ তথা আল-কায়েদা ও অন্যান্য ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ যুক্তরাষ্ট্র যখন আল-কায়েদাকে ব্যবহার করে লিবিয়ার সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টায় লিপ্ত, তখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    বিশ্লেষকেরা লক্ষ্য করেন, একদিকে আল-কায়েদা দমনের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাবাহিনী পাঠিয়ে বছরের পর বছর যুদ্ধ করে যাচ্ছে আফগানিস্তানে এবং মনুষ্যহীন ড্রৌন-হামলা চালিয়ে হত্যা করছে শতো-শতো পাকিস্তানী নাগরিক, আর অন্যদিকে তেল-জল-সমৃদ্ধ লিবিয়ায় সরকার উৎখাত করতে ব্যবহার করছে সে-আল-কায়েদাকেই।

    এ-পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে আল-কায়েদা তথা ইসলামী-মৌলবাদের অস্তিত্বের সত্যিকারের ‘বেনিফিশিয়ারী’ বা সুবিধাভোগী কারা, তা নিয়েও।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন