• থমথমে কোরীয় উপদ্বীপঃ উত্তরের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে যুদ্ধানুশীলন যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণের
    north_korea_women_army.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১২ মার্চ ২০১৩, মঙ্গলবারঃ হাজার-হাজার সেনা ও জীবন্ত-গোলা ব্যবহারে মাধ্যমে যৌথ যুদ্ধানুশীলনের মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের কাছে পরিকল্পিত এ-মহড়া শুরু করলে ১৯৫৩ সালে সাক্ষরিত সাময়িক অস্ত্রবিরতির চুক্তি বাতিল করবে এমনকি প্রয়োজনে পারমাণবিক বোমার অগ্রীমাক্রমণও করতে পারে বলে হুশিয়ারী করেছিলো উত্তর।

    গত সপ্তাহে উচ্চারিত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে যুদ্ধ-মহড়া শুরু করায় উত্তর কোরিয়া আজ ঘোষণা দিয়েছে 'অস্ত্রবিরতির চুক্তি অগ্রাহ্য বলে গণ্য হবে'। জরুরী মুহূর্তে দুই কোরিয়ার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে স্থাপিত রেড টেলিফৌন লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে উত্তর। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়াও 'কঠিনতর জবাবের' ঘোষণা দিয়েছে। উভয় পক্ষ স্ব-স্ব সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ-মাধ্যমগুলো।

    দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, উত্তরকে সতর্ক করে বলেছে, 'পারমাণবিক আক্রমণ করলে আমাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) পূর্ণ-ক্ষমতার মুখোমুখি হতে হবে'। কোরিয়ার প্রতিবেশী চীন সকল পক্ষকে শান্ত হয়ে আলোচনায় ফিরে আসতে অনুরোধ জানিয়েছে।

    কোরিয়া-যুদ্ধের অতি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    জাপান-সম্রাট শাসিত কোরিয়া উপদ্বীপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিজয়ী মিত্রবাহিনী ৩৮ প্যারালাল সীমানা চিহ্নিত করে দুই ভাগে ভাগ করে - কোরিয়ার জনগণের অনুমতি না নিয়েই। মিত্রবাহিনীর দুই বৃহত্তম পরাশক্তি - যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন - অবস্থান নেয় যথাক্রমে দক্ষিণ ও উত্তরাংশে। উভয় অংশেই নির্বাচনের কথা থাকলেও সময়মতো তা হয়নি। উত্তরে প্রতিষ্ঠিত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন-ঘেঁষা সমাজতান্ত্রিক সরকার আর দক্ষিণে মার্কিন-ঘেঁষা সরকার।

    পরের বছর দক্ষিণের জনতা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা-অবস্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানায়, যা দ্রুত সরকার বিরোধী সশস্ত্র-বিদ্রোহে রূপ নেয়। কমিউনিস্ট-বিরোধী বলে পরিচিত সাঙ্ম্যান রী'র সরকার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নির্মম সেনা-অভিযান পরিচালনা করেন - এতে প্রায় ১ লাখ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক নিহত হন। উভয় কোরিয়ার একায়নের আলোচনা ভেস্তে যায়। ছোটো-ছোটো আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ ১৯৫০ সালের ২৫ জুন পূর্ণ যুদ্ধে রূপ নেয়, যখন উত্তরের নেতা জাপানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর বলে পরিচিত কিম ইল-সং তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে দক্ষিণে অগ্রসর হন। ২৮ তারিখে দক্ষিণের রাজধানী সিউলের পতন ঘটে, দক্ষিণের সাংসদদের বড়ো অংশ উত্তরের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে নেয়।

    সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পর্ষদে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা পাঠানোর রেজ্যুলুশন পাশ করিয়ে নেয়। প্রায় ৮৮% মার্কিন সেনার সমন্বয়ে গঠিত জাতিসঙ্ঘ বাহিনী উত্তরের বিরুদ্ধে প্রতি-আক্রমণ করে তাদেরকে ৩৮ প্যারালাল সীমানার উত্তরে নিয়ে আসে অক্টোবরে। মার্কিন সেনারা উত্তরের চীনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ এনে চীন যুদ্ধে যোগ দেয় উত্তর কোরিয়ার পক্ষে।

    ১৯৫১ সালের জানুয়ারীতে চীনের সহায়তায় উত্তর কোরিয়া পুনরায় সিউল জয় করে। পরে মার্কিন সেনার কোরীয় প্রধান বদলের পর উত্তর কোরিয়ার অগ্রগতি রোধ হয় এবং যুদ্ধ ৩৮ প্যারালালের কাছাকাছি আটকে পড়ে। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই যুদ্ধে আর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। সে-বছরের ২৭ জুলাই উভয় পক্ষ অস্থায়ী অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। স্থায়ী শান্তি-চুক্তি না হওয়ার কারণে দেশদু'টি কৌশলগতভাবে এখনও যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে বলে ধরা হয়।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন