• থাইল্যাণ্ডের সরকার-বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে বিপুল সাড়াঃ পার্লামেণ্ট প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ নভেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ থাইল্যাণ্ডের সরকারের 'পতন' ঘটাতে বিক্ষোভ করছে বিরোধীদলের একজন এমপির নেতৃত্বে হাজার-হাজার মানুষ। এ-অবস্থায় সংসদে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেও বিপুল ভৌটে তা খারিজ হয়ে গিয়েছে।

    গত ২৫ তারিখে বিরোধী সাংসদ সুতিপ তাক্সুবানের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী থাইল্যাণ্ডের অর্থ-মন্ত্রণালয় ভবন দখল করে নেয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলেও পুলিস এখনও আটক করেনি। সেখানে অবস্থান নিয়ে তাক্সুবানের অনুসারীরা সরকারের পতন ঘটাতে আন্দোলন পরিচালনা করছেন। এর ধারাবাহিকতায় তাঁরা পুলিস সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

    পার্লামেণ্টে অনাস্থা প্রস্তাব থেকে রক্ষা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জিনলাক শিনাওয়াত আন্দোলকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আলোচনার টেবিলে আসার। তবে সুতিপ তাক্সুবান প্রত্যাখ্যান করেছেন সে-প্রস্তাব। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাক্সিন শিনাওয়াতের বোন, যাঁকে ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করে।

    ক্ষমতাসীন ফেউ থাই পার্টির সাংসদরা সম্প্রতি একটি বিল আনে যার আওতায় বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক হানাহানির অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কথা ছিলো। তবে বিরোধীরা একে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দেশে 'ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে প্রকৌশল' হিসেবে দেখতে শুরু করে। দৃশ্যতঃ সে-ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সুতিপ রাজধানীতে লোক জড়ো করতে শুরু করেন। সারা দেশ থেকে বাসে করে প্রচুর লোক আনা হয় বিক্ষোভে যোগ দিতে।

    সেনা-অভ্যুত্থানের পর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে প্রধানমত্রী হন ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা অভিসিৎ ওয়েজ্জাজুয়া। বর্তমান সরকার-বিরোধী আন্দোলনের নেতা সুপিতও একই পার্টির নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী। সেনা-সমর্থিত সে-সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফেউ থাই পার্টির সমর্থনে গণতন্ত্রকামী 'রেড শার্ট্‌স' আন্দোলন শুরু হয়। তৎকালীন সরকার বল-প্রয়োগের মাধ্যমে সে-আন্দোলন দমন করেছিলেন, যাতে অন্ততঃ একশো বিক্ষোভকারী গুলিতে মারা যায়।

    রেড শার্ট্‌স আন্দোলকদের উপর গুলির ঘটনায় থাই সমাজে গভীর বিভক্তি দেখা দেয়। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাই ফেউ থাই পার্টি 'ন্যাশনাল রেকনসিলিয়েশন' বা জাতীয় পুনঃমিলনকে প্রধান স্লোগান হিসেবে আনে এবং বিপুল ব্যবধানে ডেমৌক্র্যাট পার্টিকে পরাজিত করে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন