• দিল্লীর তরুণী গণধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত তরুণের মৃত্যু কারাগারেঃ পরিবার বলছে হত্যা পুলিস বলছে আত্মহত্যা
    india_tihar_jail.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১১ মার্চ ২০১৩, সোমবারঃ  দিল্লীর বহুল আলোচিত গণধর্ষণ মামলায় ধৃত ৫ অভিযুক্তের ১ জনকে কারাগারের অভ্যন্তরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তাঁর পরিবার ও আইনজীবী একে 'পুলিসের দ্বারা হত্যা' বলে সন্দেহ করছেন, পক্ষান্তরে পুলিস দাবি করছে এটি আত্মহত্যা।

    গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লীর একটি চলন্ত বাসে এক তরুণী ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষকরা পরে তাঁকে আহত অবস্থায় বাস থেকে ফেলে দেয়। হতভাগ্য ঐ তরুণীকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে তাঁকে চিকিৎসার্থে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে - সেখানেই তিনি মারা যান।

    এ-ঘটনায় রাজধানী দিল্লী-সহ ভারতের প্রধান-প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক আকারে গণবিক্ষোভ দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ-মামলাটি দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। পুলিস এ-পর্যন্ত এক কিশোর-সহ মোট ৬ ব্যক্তিকে আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ৩৩ বছর বয়েসী চালক রাম সিং, যিনি ধর্ষণ সঙ্ঘটনকালে বাসটি চালাচ্ছিলেন।

    দিল্লীর তিহার কারাগার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, রাম সিং কারাগারের অভ্যন্তরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তাঁর পরিবার ও আইনজীবীর পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, রামকে পুলিসই হত্যা করেছে।

    রামের পিতা মাঙ্গেলাল সিং সংবাদ-মাধ্যমকে বলেছেন, 'আমার ছেলের হাতে মারাত্মক আঘাত ছিলো, তার পক্ষে আত্মহত্যা করা অসম্ভব'। তিনি আরও বলেন রামকে কারাগারের অভ্যন্তরে ধর্ষণ করেছে অন্যান্য বন্দীরা, রক্ষীরাও তাঁকে বারংবার হুমকী দিয়েছিলো।

    বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রামের আইনজীবী বি. কে. আনন্দ জানান, 'রাম তাঁর আইনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন'। ফলে আত্মহত্যা করার কারণ ঘটার মতো কোন পরিস্থিতি ছিলো না - দাবি করেন তিনি।

    তিহার কারাগারের প্রধান বিমলা মেহেরার উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে গত বছর ঐ কারাগারে ১৮টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ২টি ছিলো আত্মহত্যা। উল্লেখ্য, তিহার হচ্ছে এসিয়ার সর্ববৃহৎ কারাগার; ৬ হাজার বন্দীর ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে এখানে প্রায় ১২ হাজার বন্দী রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন