• দুনিয়া-জুড়ে প্রতিদিন শত-কোটি মানুষ ক্ষুধার্থ থাকেঃ বিশ্ব খাদ্য সংস্থা

    বর্তমানে সারা বিশ্ব-জুড়ে দৈনিক প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ ক্ষুধা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে জীবন-যাপন করছেন। প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ-তথ্য। জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাদ্য-দ্রব্যের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় চল্লিশ মিলিয়ন অধিক মানুষ ক্ষুধা-বিপর্যয়ের বলয়ে ঢুকে পড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    জাতিসংঘের ফুড এান্ড এাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) কর্তৃক মঙ্গলবার প্রকাশিত দ্য স্টেইট অফ ফুড ইনসিকিউরিটি ইন দ্য ওয়ার্লড শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে কয়েক মাস আগের তুলনায় গত কয়েক সপ্তাহে খাদ্য-দ্রব্যের দাম বেশ খানিকটা কমেছে। তবে এ-সত্ত্বেও দু-বছর আগের তুলনায় খাদ্য-দ্রব্যের দাম এখন বর্তমানে ২৮ শতাংশ বেশি। এফএওর সর্বশেষ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরে সুস্থ-স্বাভাবিক একটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় ক্যালৌরী ক্রয়ে অসমর্থ হচ্ছেন এক বিলিয়নের কাছাকাছি (৯৬৩ মিলিয়ন) মানুষ। এ-সংখ্যাটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ।

    এফএওর প্রতিবেদনে প্রকাশ ক্ষুধা বিপর্যয়ের শিকার জনগণের বেশির ভাগই বসবাস করেন উন্নয়নশীল হিসাবে পরিচিত দেশগুলোতে। প্রায়এক বিলিয়ন ক্ষুধিত মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশই আবার বাস করেন মাত্র সাতটি দেশে। এ-দেশগুলো হচ্ছে ভারত, চীন, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়া। ভূমি-হীন পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষুধা-বঞ্চনার প্রকোশ সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে জাতিসংঘ। এর মধ্যে নারী-প্রধান পরিবারগুলোর অবস্থা সুনির্দিষ্টভাবে অধিক শোচনীয়। বিদ্যমান পরিস্থিতির ব্যাপারে তথ্য দান-কালে এফএওর এাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ডাইরেক্টর হাফেজ ঘানেম বলেন 'ভূমির উপরে নিয়ন্ত্রণ, ঋণপ্রাপ্তি ও কর্ম-সংস্থানের অভাবের মত ক্ষুধা-বিপর্যয়ের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সাথে খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্যের ব্যাপারটি ভয়াবহ এক বাস্তবতা হিসাবে বিরাজ করছে।' জাতিসংঘের প্রতিবেদন-মতে উন্নত বিশ্ব নামে পরিচিত দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে খাদ্য-দ্রব্যের উচ্চ-মূল্যের ব্যাপারটিকে মোকাবেলা করায় সক্ষম হয়েছে। এসব দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য-শস্যের উৎপাদন বেড়েছে ১০ শতাংশ। কিন্তু সার, বীজ, জল-সেচের সমস্যা-সহ খাদ্য-শস্যের দাম বেড়ে যাবার সুযোগ গ্রহণ করার মতো বাজার না থাকার কারণে গরীব দেশগুলো এ-ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত জুন মাসে রৌমে জরুরী এক বৈঠক অংশ নিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা দানের লক্ষ্যে কৃষিখাতে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে সহ-মত হয়েছিলো ধনী দেশগুলো। কিন্তু গত কয়েক মাসের ক্রেডিট ক্র্যাঞ্চের পরিণতিতে এক্ষেত্রে তেমন কোনো জোর উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এফএওর মহাপরিচালক জ্যাকুয়েস ডিওফ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উষ্মা প্রকাশ করে সংবাদ-মাধ্যমে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে এ-দুঃখজনক বাস্তবতা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমানে যে-ধরণের অর্থনৈতিক দুর্গতি চলছে, তা থেকে মোটামুটি হলেও এক-ধরণের উত্তরণ না ঘটা পর্যন্ত গরীব বিশ্বের শতো-কোটি মানুষকে ক্ষুধা বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার ব্যাপারে ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার সম্ভাবনা কম।

    লন্ডনঃ ১০ ডিসেম্বর ২০০৮

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন