• দু-দশক পর বাঁয়ে ঘুরলো ফ্রান্সঃ সমাজতান্ত্রিক দলের ফ্রাঁসো অলান্দ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
    Hollande.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ মে ২০১২, রোববারঃ  সমাজতান্ত্রিক আদর্শের জন্মস্থান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত রাউণ্ডেও বিজয়ী হলেন সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী ফ্রাঁসো অলান্দ, আর এর মধ্য দিয়ে প্রায় দু-দশক পর দেশটির নেতৃত্ব এলো বামপন্থীদের হাতে, যদিও নতুন প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক বিশ্বাস ও কর্মসূচির দিক থেকে হবেন বরং মধ্যপন্থী সৌশ্যাল ডেমোক্র্যাক্ট বা সামাজিক গণতন্ত্রী।

    দু’সপ্তাহ আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রথম ভৌট গ্রহণের পর আজ রোববার দ্বিতীয় রাউণ্ডে পুনরায় পরাজিত হলেন দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি, আর প্রায় ৫১ শতাংশেরও বেশি ভৌট পেয়ে চূড়ান্ত বিজয়ী হলে ফ্রাঁসো অলান্দ।

    দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে অল্প-জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট নিকোলা সার্কোজি পরাজয় স্বীকার করে অভিনন্দন জানিয়েছেন অলান্দকে, আর বলেছেন তিনি হয়ে থাকবেন ‘এ্যা ফ্রেঞ্চম্যান এ্যামাং দ্য ফ্রেঞ্চ’ - অর্থাৎ একজন সাধারণ ফরাসী।

    প্রথম রাউণ্ডের মতো এবারও মোট ভৌটারদের মধ্যে মোটামুটি ৮০% ভৌট-দানের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলের ভাষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানানো হয়, ফ্রাঁসো অলান্দ পেয়েছেন ৫১.১% আর সারকোজির পক্ষে পড়েছে ৪৮.৯ শতাংশ ভৌট।

    ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত সমাজতন্ত্রবাদী ফ্রাঁসো মিতেরাঁর পর ১৭ বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টত্ব ছিলো দক্ষিণপন্থীদের হাতে। ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত জ্যাক শিরাকের দুই মেয়াদ এবং  ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত নিকোলা সারকোজির এক মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট পদ জয় করে নিলো সমাজতান্ত্রিক দল।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণতঃ দেখা যায় চলতি প্রেসিডেন্ট প্রথম রাউণ্ডে সর্বোচ্চ ভৌট পান, কিন্তু সারকোজির ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রথম রাউণ্ডে সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী অলান্দে প্রথম, সারকোজি দ্বিতীয় এবং দূর-দক্ষিণপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের নারী প্রার্থী মারিনা লে-পেন প্রায় সাড়ে ছয় মিলিয় ভৌট ভৌট পেয়ে তৃতীয় হন।

    দ্বিতীয় রাউণ্ডে দূর-দক্ষিণপন্থীদের ভৌট পাবার আশায় সারকোজি গত দু-সপ্তাহ ধরে ব্যাপক হারে দক্ষিণপন্থী এ্যাজেণ্ডা - অর্থাৎ ইমিগ্রেশন, মুসলিম ভীতি ইত্যাদি - বিষয়ের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য ও সাক্ষাতকার দিলেও তিনি সাধারণ ভৌটারদের কাছে ধনী-বান্ধব প্রার্থী হিসেবে পরিগণিত হন। এমনকি নিজদলীয় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শিরাকও তাঁর সমালোচনা ও অলান্দের প্রশংসা করেন।

    বিপরীত দিকে অর্থনৈতিক মন্দাক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রতিশ্রুতিতে সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী অলান্দ পরম ধনীদের উপর ৭৫% হারে আয়কর আরোপের ঘোষণা দিয়ে দ্রুত সাধারণ ভৌটারদের মধ্যে দরিদ্র-বান্ধব হয়ে ওঠেন।

    বস্তুতঃ ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কাঠিন্যের জন্য উদার ইমিগ্রেশন নীতি নাকি ধনী-বান্ধব অর্থনীতি দায়ী, এই তূল্য বিচারে বেশির ভাগ ভৌটার দ্বিতীয়টিকেই ঠিক মনে করেছেন বলে সারকোজির চেয়ে বেশি ভৌট পেয়েছেন অলান্দ।

    অলান্দের বিজয় ঘোষিত হবার পর অলান্দের সমর্থকেরা ইতিহাস-বিখ্যাত ফরাসী বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল ভষ্মীভূত বাস্তিল দূর্গের স্থল বাস্তিল প্লেইসে আজ সমেবেত হয়ে বিজয় উদযাপন করেন। অলান্দের বিজয় শুধু ফ্রান্সে নয়, সমগ্র ইউরোপে বামপন্থীদের অবস্থান এগিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সদ্য সমাপ্ত ব্রিটেইনের স্থানীয় নির্বাচনে বাঁয়ে-হেলানো বলে কথিত এড মিলিব্যাণ্ডের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির কাছে দক্ষিণপন্থী প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরীক দুই দল কনসার্ভেটিভ ও লিবডেমের প্রার্থীদের ব্যাপক পরাজয়ও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ফ্রাঁসো অলান্দ মধ্য মে মাসে শপথ গ্রহণ করে কাজ শুরু করার পরই ফ্রান্স ও ইউরোপে তার নীতির প্রতিফলন ঘটাতে শুরু করবেন।

    দক্ষিণপন্থী চ্যান্সেলার এঞ্জেলা মার্কেলের নেতৃত্বাধীন জার্মানীর সাথে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বাজেট নীতি বিষয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসো অলান্দের দ্বন্দ্ব ও দরদস্তুর অনিবার্য হয়ে উঠবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন