• দ্য হিন্দুর ইংরেজির ভুল বঙ্গানুবাদ প্রথম আলোয়ঃ কী বলেছিলেন প্রণব মুখার্জী?
    Prothom-Alo.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৪ জানুয়ারী ২০১২, মঙ্গলবারঃ  ভারতের বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়তে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভুল বঙ্গানুবাদ করে আজ খবর প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বাংলা দৈনিক প্রথম আলোতে।

    এক বাংলাদেশী নাগরিককে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত সেনারা উলঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ক্ষমাহীনভাবে প্রহারের ঘটনা ভিডিও ক্লিপ-সহ ইন্টারনেটে ও সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর বাংলাদেশের জনমনে যে বিক্ষোভের জন্ম হয়েছে, এর উল্লেখ-সহ দ্য হিন্দু তার সম্পাদকীয়তে ভারতকে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার সুপারিশ করেছে। আর, এ-বিষয়টি খোদ সংবাদ হয়ে একই দিন প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোতে।

    ইউকেবেঙ্গলি লক্ষ্য করে, মূল সম্পাদকীয়তে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর করা একটি মন্তব্য উল্লেখ করে দ্য হিন্দুতে ইংরেজিতে যা বলা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ভুল বঙ্গানুবাদ করেছে বাংলাদেশী পত্রিকাটি।

    প্রথম আলো লিখেছে,  ‘সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী এই ঘটনা অতিরঞ্জিত করবেন না—অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির এমন মন্তব্য ক্ষোভ বৃদ্ধিতে উসকানি দিয়েছে এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ভারতপন্থী হওয়ার অভিযোগ পরিপূর্ণ করেছে।’

    কিন্তু দ্য হিন্দুর ভাষ্য হচ্ছে, ‘A remark by Finance Minister Pranab Mukherjee that the incident must not be hyped, echoed by a Bangladeshi Minister, seems only to have provoked more anger and fuelled opposition allegations against the Sheikh Hasina government for being “pro-India”’, যার বাংলা ভাবার্থ হলো, ‘ঘটনাটির অতিরঞ্জন মোটেও উচিত নয় বলে অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর যে একটি মন্তব্য করেন এবং যা বাংলাদেশী একজন মন্ত্রীর কন্ঠেও প্রতিধ্বনিত হয়, তা কেবলই অধিকতর বিক্ষোভ উস্কে দিয়েছে এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘ভারত-পন্থী’ হবার বিরোধী-দলীয় অভিযোগে আরও শক্তি যুগিয়েছে।’

    বাংলাদেশী মন্ত্রীকে যুক্ত করে প্রণব মুখার্জীর যে-মন্তব্যের কথা প্রথম আলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্য হিন্দুতে মোটেও তা বলা হয়নি। তিনি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীকে ঘটনাটির অতিরঞ্জন না-করার কথা বলেছেন বলে দ্য হিন্দু'তে বলা হয়নি। দ্য হিন্দু বলেছে যে, প্রণব মুখার্জীর কথার প্রতিধ্বনি করেছে বাংলাদেশের এক মন্ত্রী। স্পষ্টতঃ বাংলাদেশের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের কথাই এখানে নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিত করেছে দ্য হিন্দু।

    এছাড়াও ‘ফুয়েলড্‌’ শব্দটিকে সম্ভবতঃ ‘ফুল’ বা ‘পূর্ণ’ সম্পর্কিত মনে করে ‘অভিযোগ পরিপূর্ণ করেছে’ বলে ভিন্নার্থক বাক্য গঠন করা হয়েছে প্রথম আলোতে। ইংরেজিতে 'fuelled allegations' করার যেখানে একটি নেতিবাচক বার্তা আছে, সেখানে তার ভ্রান্ত বঙ্গানুবাদ 'অভিযোগ পরিপূর্ণ' করা মধ্যে সেটি থাকে না বলে ইউকেবেঙ্গলি নিশ্চিত করছে। 

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাংলা মাধ্যমগুলোতে প্রায়শঃ ইংরেজি থেকে এ-রকম ভুল বঙ্গানুবাদের ফলে সংবাদের মূল অর্থ হারিয়ে যায় এবং এর ফলে পাঠককূল সঠিক তথ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন