• নাইজেরিয়ায় 'সন্ত্রাসী' বোমা-হামলাঃ ৭২ নিহত ১৬৪ আহত
    nigeria_bus_station_blast.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৪ এপ্রিল ২০১৪, সোমবারঃ  নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজার একটি ব্যস্ত বাস স্টেইশনে আজ শক্তিশালী বোমার বিষ্ফোরণে অন্ততঃ ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রেসিডেণ্ট জোনাথন গূডউইল এ-ঘটনাকে 'সন্ত্রাসী হামলা' বলে আখ্যায়িত করে এর পেছনে ইসলামবাদী সংগঠন বোকো হারাম রয়েছে বলে দাবি করছেন। তবে, নাইজেরিয়াকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাওয়া এ-সংগঠনটি এখনও হামলার দায়িত্ব স্বীকার বা কৃতিত্ব দাবি করেনি।

    নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এসৌসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে এ-ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬৪ জন ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

    নাইজেরিয়ার জনগোষ্ঠী মূলতঃ মুসলিম ও খ্রিশ্চান ধর্মানুসারী - সংখ্যার বিচারে যার অনুপাত প্রায় সমান সমান। মুসলিমরা বাস করে প্রধানত দেশটির উত্তরাংশে আর খ্রিশ্চানরা দক্ষিণে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিই বিরাজিত ছিলো। এমনকি বোকো হারামের উত্থানের পরও উভয় সম্প্রদায় মোটামুটি সৌহার্দ্য বজায় রেখেই চলছিলো।

    তবে বিগত কয়েক বছর ধরে বোকো হারামের হামলা বেশ বেড়ে চলায় দেশটিকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা বাড়ার সম্ভবনাও বেড়ে চলেছে। ২০১৩ সালের মার্চেও সংগঠনটি একটি বাস-স্টেইশনে গাড়ী-বোমার হামলা চালিয়ে ২৫ হন নাগরিককে হত্যা করে। সে-বছরই মে মাসে প্রেসিডেণ্ট গূডলাক  - যিনি একজন খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী - নাইজেরিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেন।  এ-অবস্থার মধ্যেই বোকো হারাম একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে - কখনও সেনা ব্যারাকে, কখনও জেইল ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে বন্দী জিহাদীদেরকে।

    ওয়াশিংটন ভিত্তিক রাজনৈতিক ঝুঁকি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ মনে করছে, আজকের হামলা প্রেসিডেণ্ট গূডলাকের পক্ষে সুবিধাজনকই হবে। কারণ, এ-ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব তিনি সহজেই পাস করিয়ে নিতে পারবেন পার্লামেণ্টে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন