• নেপাল সরকার আবার মাওবাদীদের হাতেঃ বাবুরাম ভট্টরাই প্রধামন্ত্রী হলেন
    baburam-bhattarai-and-prachanda1.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৯ অগাস্ট ২০১১, সোমবারঃ  দীর্ঘ অস্থায়ীত্ব ও ঘন-ঘন পরিবর্তনের পর নেপালের সরকার প্রধানের পদ পূরণ করলো সাংবিধানিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ইউনিফাইড কমিউনিস্ট পার্টী অফ নেপাল (মাওবাদী)। দলটির ভাইস-চেয়ারপার্সন ডঃ বাবুরাম ভট্টরাই নেপালী কংগ্রেসের প্রার্থী চন্দ্র পোদেলকে পরাজিত করে গতকাল রোববার  জনতন্ত্রের দেশের ৪র্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।

    উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ২৮ মে নেপালে মাওবাদীদের নেতৃত্বে রাজতন্ত্রের পতন ঘটার পর ১৮ অগাস্ট জনতন্ত্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন মাওবাদীদের শীর্ষনেতা পুষ্প কমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড। কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রধানকে বরখাস্ত করা নিয়ে কংগ্রেস-দলীয় রাষ্ট্রপতি রামবরণ যাদবের সাথে মতবিরোধের কারণে ২০০৯ সালের ২৫ মে পদত্যাগ করেন।

    পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রচণ্ডের পদত্যাগের পর থেকে গত রোববার ভট্টরাইয়ের নির্বাচিত না-হওয়ার অবধি ভিন্ন-দলীয় প্রধানমন্ত্রীত্ব মেনে নেন নেপালের মাওবাদীরা। পুষ্প কুমার প্রচণ্ডের পর মাধব কুমার নেপাল ৯ মাস এবং ঝল নাথ খানাল ৬ মাস প্রধানমন্ত্রীত্ব করেছেন, কিন্তু তাঁরা কেউই পার্লামেন্টের প্রধানতম যে-কাজ - সংবিধান রচনা করা - তা বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি।

    নেপাল এখনও পর্যন্ত ‘অন্তর্বর্তী সংবিধান’ নামে পুরনো সংবিধানের ভিত্তিতে চলছে। নতুন সংবিধান রচনার প্রথম শেষ-তারিখ ছিলো ২৮ মে ২০১০। পরবর্তীতে তা ২৫ মে ২০১১ পর্যন্ত বর্ধিত করার পরও নতুন সংবিধান প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয় সরকার। শেষ পর্যন্ত গত ২৯ মে মেয়াদ-কাল আরও তিন মাসের জন্য বাড়ানো হয়, যা এখনও পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ আদালতের অনুমোদন পায়নি।

    গত দু’বছর যাবৎ বার-বার প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকারে মাওবাদীদের নেতৃত্ব ছাড়া বর্তমান সঙ্কট থেকে নেপালের উত্তরণ কঠিন। ধারণা করা হচ্ছে, মাওবাদী নেতা পুষ্প কুমার প্রচণ্ডের সাথে সংঘর্ষ লিপ্ত হওয়া রাষ্ট্রপতিকে অচিরেই বিদায় নিতে হবে।

    নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ডঃ বাবুরাম ভট্টরাই মাওবাদীদের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা, যাঁর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে শীর্ষতম নেতা পুষ্প কুমার প্রচণ্ডের মত-ভিন্নতা আছে বলে ধারণা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, দিল্লি-শিক্ষিত ডঃ ভট্টরাইয়ের প্রধানমন্ত্রীত্ব ভারতের কাছে প্রচণ্ডের প্রধানমন্ত্রীত্বের চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য।

    এক দশকেরও অধিক কাল যাবৎ জনযুদ্ধ-করা মাওবাদী গেরিলাদেরকে নতুন জনতন্ত্রের সেনাবাহিনীর অঙ্গীভুত করার মাওবাদী কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে দেশটির রাজকীয় আমলের সেনাবাহিনীর সক্রিয় বাধা সর্ব-মহলে বিদিত। উল্লেখ্য, নেপালের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসারেরা রাজকীয় আমলের উচ্চ-শ্রেণী থেকে আগত এবং স্বভাবতঃ তাঁরা প্রান্তিক-শ্রেণী থেকে গড়ে ওঠা মাওবাদী গেরিলাদেরকে সম-মর্যাদায় বরণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে।

    ২০০৯ সালে ৩ মে সেনাপ্রধান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কুমার প্রচণ্ড সেনাপ্রধান জেনারেল রুকমাঙ্গুদ কাতওয়ালকে পদচ্যুত করলে কংগ্রেস-দলীয় রাষ্ট্রপতি রামবরণ যাদব প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যায়িত করে তাঁকে পুনর্বহাল করেন। এ-পরিস্থিতিতে মাওবাদী নেতা প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলে ভবিষ্যত সঙ্কটের জন্ম হয়।

    উল্লেখ্য, মাওবাদী শীর্ষনেতা প্রচণ্ডের সাথে সেনা-প্রধান জেনারেল কাতওয়াল ও রাষ্ট্রপতি যাদবের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে শেষোক্তদের প্রতি ভারত সরকারের সমর্থনের ঘটনা একটি গুরুত্ব উপাদান হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বিবেচিত।

    ইউকেবেঙলির বিশ্লেষণ-মতে, বর্তমান পরিস্থিতি - অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল কাতওয়াল না-থাকা, রাষ্ট্রপতি যাদব বিদায়-আসন্নতা, প্রচণ্ডের পরিবর্তে দিল্লি-শিক্ষিত ডঃ ভট্টরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ মাওবাদীদের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী হওয়া - একটি কর্মক্ষম আপোষ-ফর্মুলা। নেপালের সাংবিধানিক পরিষদ শীঘ্রই তার নতুন সংবিধান প্রনয়ণে সফল হবে বলে ধারণা করা যায়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন