• নোবেল-জয়ী গুন্টার গ্রাসের কবিতাঃ ইরান নয় ইসরায়েলই বিশ্ব-নিরাপত্তার প্রতি হুমকি
    Guenter-Grass.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ এপ্রিল ২০১২, শুক্রবারঃ  সাহিত্যে নোবেল-জয়ী জার্মান ঔপনাসিক, কবি, নাট্যকার, ভাষ্কর ও গ্রাফিক ডিজাইনার ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী গুয়েন্টার গ্রাস ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তুলনা করে একটি কবিতা লিখে এবং সে-কবিতায় ইউরোপের প্রচলিত ধারণার বাইরে ইরানের বদলে ইসরায়েলের পারমাণবিক ক্ষমতাকে বিশ্ব-নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন।

    গত বুধবারে জার্মান দৈনিক ‘যুডডয়শে ৎটাইটুং’ প্রকাশিত ‘ভায গেসাগট্‌ ভেরডেন মুস’ (যা বলতেই হবে) শিরোনামের একটি কবিতায় গুন্টার গ্রাস লিখেছেন, এটি ইরান নয়, বরং ইসরায়েলেরই পারমাণবিক শক্তিই নড়বড়ে বিশ্ব-শান্তিকে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে, কারণ ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি বিকশিত হয়েছে কোনো রূপ পরিদর্শন ছাড়াই।

    এই কবিতায় গুন্টার গ্রাস ইসরায়েলের কাছে সাবম্যারিন বিক্রি না করার জন্য জার্মানীর প্রতি আহবান জানান। তিনি জার্মানদের এই বলে সতর্ক করেছেন যে, তাঁরা ইসরায়েলকে ডুবো-যুদ্ধজাহাজ যুগিয়ে হয়তো কোনো এক অদেখা অপরাধের সঙ্গী হচ্ছেন।

    কবিতার শেষ দিকে গুন্টারগ্রাস লিখেছেন ‘আমি আর নই নিশ্চুপ ও শান্ত/ কারণ আমি পশ্চিমের কপটতায় ক্লান্ত/ এরই সাথে করি এই প্রত্যাশা/ এ-কবিতা অনেক নির্বাককে দেবে ভাষা।

    বুধবারে কবিতাটি প্রকাশিত হবার পর জার্মানী থেকে ইসরায়েল পর্যন্ত ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে গুন্টার গ্রাসের স্ব-স্বীকৃত নাৎসী অতীত নিয়ে।

    উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে গুন্টার গ্রাস স্বেচ্ছায় প্রকাশ করেন যে, কিশোর বয়সে জার্মানীর শ্রম-শিবির থেকে নাৎসী ভাফেন এসএস বাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    গুন্টার গ্রাসের অতীতকে ইঙ্গিত করে ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যে লজ্জাকর তুলনা গুন্টার গ্রাস করেছেন ইসরায়েলের সাথে ইরানের  - যে দেশটির শাসকগোষ্ঠী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদী নিধনের ঘটনাকে অস্বীকার করে এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার আহবান জানায় - তাতে ইসরায়েল সম্পর্কে তেমন কিছু প্রকাশিত না হলেও মিঃ গ্রাস সম্পর্কে প্রকাশিত হয়েছে অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘তাঁর জন্য এক ও একমাত্র ইহুদী রাষ্ট্রকে সর্ববৃহৎ হুমকি মনে করাটা আশ্চর্য্যের কিছু নয়।’

    বিপরীত-ক্রমে, ইরানের বার্তা সংস্থা প্রেস টিভি গুন্টার গ্রাসে কবিতাকে ‘ইসরায়লের মিথ্যার উপর মারাত্মক কাব্যিক আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছে।

    খোদ জার্মানীতে গুন্টার গ্রাসের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ক্ষমতাসীন দল ক্রিস্টান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেট্যারী হেরমান গ্রোহে বলেছেন, ‘এই কবিতায় যে মেজাজ ও বার্তা দেয়া হয়েছে, তাতে আমি আতঙ্কিত।’

    গুন্টারগ্রাসের সমর্থিত সৌশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ্যান্ড্রিয়া নাহলেস বলেছেন, ‘আমি গুন্টার গ্রাসের প্রসংশা করি, কিন্তু এই কবিতার ব্যাপারে আমার বিচার হচ্ছে এটি বিরক্তিকর এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ভ্রান্তিপূর্ণ বিবরণ দেয়া হয়েছে।’

    নিজের কবিতার সমালোচনা প্রত্যক্ষ করে গুন্টার গ্রাস গতকাল জার্মান টেলিভিশন ‘এনআরডি’তে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করছি, বাক-স্বাধীন এই গণতান্ত্রিক দেশে আশা করা হয় জনগণ একটি মান অর্জন করবেন, অথচ এখানে আমার কবিতার বিষয়বস্তু এবং আমার উত্থাপিত প্রশ্নের প্রতি দৃকপাত অস্বীকার করা হচ্ছে।’

    সমালোচনার মুখে তিনি তাঁর কবিতা প্রত্যাহার করবেন কি-না জানতে চাওয়া হলে বামপন্থী গ্রাস জানান, তিনি পিছু হটবেন না। চুরাশি বছর বয়স্ক গুন্টার গ্রাস তাঁর সাহিত্য কর্মের জন্য সম্মানজনক বিভিন্ন পুরষ্কার লাভ করেন, তবে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠটি হচ্ছে ১৯৯৯ সালে পাওয়া নোবেল পুরষ্কার।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন